এক অগ্রজ সাহিত্যিক আমাকে বলেছিলেন, 'গল্প নিজেই নিজের গল্প শোনায়। প্রত্যেকটি শব্দে জানান দেয় তার বর্গ-বৈশিষ্ট্য-পরিচয়। গল্পের মতো গল্প হলে, তার চলনেই মিশে থাকে আভিজাত্য, ভুর-ভুর করে গা-থেকে বংশ-মর্যাদার খুশবু বের হয়। ফিকশন বইয়ের ভূমিকা... ও-আসলে লেখকের ভণিতা... কাগজ, কালি আর সময়ের নিতান্তই অপচয়!'
কাঁচা মাথায় পাকা কথাগুলো ঢুকে গিয়েছিল বেশ। ভেবেছিলুম, গল্প যদি বা লিখি, ভূমিকা, নৈব-নৈব-চ। তবু ভাবনাটা পালটে এই ছোট্ট ভণিতাটুকু লিখছি, কিছু কথা প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো, এই বিবেচনায়।
মানুষের মনের একটা অন্ধকার কোণ থাকে। সেখানে জমতে থাকে দ্বেষ, বাসা বাঁধে লিপ্সা, আর তৈরি হয় বীভৎস তীব্র একটা প্রতিশোধ স্পৃহা। মানুষ ক্ষমাশীল নয়। বোধকরি কোনোদিনই ছিল না। ঈর্ষা, লোভ এবং পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আসলে যে অশান্তিই বাড়ায়, সুখ দিতে পারে না, প্রতি মুহূর্তে বঞ্চিত করে জীবনের আনন্দকে,
সে-বোধ তার আর থাকে না। মানব-মনের এই অন্ধকার দিকগুলোই উঠে এসেছে
এই বইয়ে। ষড়রিপুর ভয়ংকর তাড়না মানুষকে যে কী মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়, তারই নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে এ-বইয়ের প্রত্যেকটি গল্পে। যদিও আয়তনের বিচারে প্রথমটি গল্প হলেও, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি উপন্যাসিকা এবং শেষেরটি চৌত্রিশ হাজার শব্দের একটি ছিপছিপে উপন্যাস।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""