দেখতে দেখতে এটি আমার চতুর্থ বই। তবে এর আগে প্রকাশিত আমার সবক'টি বইয়ের কাহিনিই আগে প্রকাশিত হয়েছিল ভূতভূতুম গ্রুপে। সেখানে পাঠকদের অঢেল ভালোবাসা লাভ করার পর কাহিনিগুলি বইয়ের পাতায় নিজেদের জায়গা করে নেয়। সে 'ঝুমনি' হোক কিংবা 'আখিদা'। তবে এবারের গল্প একেবারেই তা নয়।
'চিগারু' কিন্তু সম্পূর্ণ প্রথমবারের জন্যই প্রকাশিত হচ্ছে বইয়ের পাতায়। আগের বইগুলির চেয়ে এই কাহিনির বিন্যাস, কাঠামো এবং গড়নও তাই ভিন্ন ধাঁচের। এই বই পড়তে পড়তেই পাঠকরা তা অনুভব করবেন বোধ করি।
আরেকটি ব্যাপারও এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে প্রথম। তা হল এই উপন্যাসে কাহিনির কথন-রীতি। এই উপন্যাসের কথক কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট একজন নয়।
বরং এই কাহিনি এগিয়েছে একাধিক চরিত্রের নিজস্ব জবানবন্দিতে। উপন্যাসে প্রতিটি পরিচ্ছেদের পূর্বে তাই ভিন্ন ভিন্ন কথকের নাম উল্লেখ করা রয়েছে। এই স্টাইলটি বাংলা সাহিত্যে নতুন নয়, খোদ বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসেই এমনটা আমি লক্ষ্য করেছি। তবে বাংলা হরর সাহিত্যে এই কথন-রীতির প্রয়োগ খুব সম্ভবত এই প্রথম। এখন সেটি কতখানি উপাদেয় হয়েছে তা পাঠকরাই বিচার করবেন।
লেখক হিসেবে আরেকটি দ্বন্ধে পড়তে হয়েছিল পুরুলিয়ার আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে। পুরুলিয়ার অধিবাসী মাত্রেই জানেন সেখানকার আঞ্চলিক ভাষা, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের কথ্যভাষা আর আমাদের শহুরে বাংলার ভাষার মধ্যে তফাৎ প্রায় লক্ষ যোজন দূরত্বের। আর সেটি হওয়ারই কথা। ফলত লেখককে পাঠকদের স্বার্থেই এই কাহিনিতে ভাষার ক্ষেত্রে একটি মধ্য পন্থা
অবলম্বন করতে হয়েছে। এমন একটি ভাষা এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হয়েছে যা আপামর সাধারণ বাঙালি পাঠকের বোধগম্য অথচ যার মধ্যে পুরুলিয়ার আঞ্চলিক ভাষার একটা প্রচ্ছন্ন টান রয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""