ক-দিন আগে একজন প্রিয় লেখিকার শৈশবের স্মৃতিচারণা পড়ছিলাম। সেই কবে কচি হাতে কলম ধরার চেষ্টা করেছিলেন, তারপর সেখান থেকে বহু পরিশ্রমে ও ধৈর্যে জন্ম নিয়েছে তাঁর আজকের সুদৃঢ় লেখনী... হঠাৎই একটা অদ্ভুত প্রশ্ন এসেছিল মাথায়।
আচ্ছা, আমি পেন-খাতা-মোবাইল নিয়ে বসে তো পড়লাম, আমার ক্ষেত্রে সেই শুরুর দিনটা ঠিক কবে ছিল। ছেলেবেলায়? উত্তরে শুধু চোখে ভাসল বাবার অফিসের লাইব্রেরি থেকে এনে দেওয়া একখানা 'আনন্দমেলা'- আমার পড়া প্রথম গল্পের বই। তারপর ঠাকুমার ঝুলি, সুকুমার রায়... ধীরে ধীরে শরীরের প্রতিটা রক্তবিন্দুতে ছড়িয়ে গেল নেশা, এখনও ছাড়তে পারিনি তাকে, এবং আমার অসীম সৌভাগ্য, সেও আমাকে ছাড়েনি। কিন্তু এ তো পড়ার কথা, লেখা? না, মনে পড়ল না। আমার কাছে আমার লেখা সংক্রান্ত কোনও শৈশবস্মৃতি নেই। আমার কাছে যে ওরা শুধু গল্পের বই নয়- টাইম মেশিন, যাঁরা ওদের সৃষ্টি করেন, তাঁরা এ নশ্বর পৃথিবীর মানুষ নন, অন্তত আমার কাছে। ওদের অক্ষরগুলো আমার কাছে চিরকালের। সেই অসাধারণদের সমান আসনে বসার কথা অমি স্বপ্নেও ভাবি না, তবে তাঁদের পায়ের কাছে বসে কিছু শিখে নিলে খুব কি অন্যায় হবে? ব্যস, শুরু হলো বড়দের আঁকা দেখে খাতায় রংপেন্সিল বোলানোর মতো একটু আধটু চর্চা মস্তিষ্কের, হৃদয়ের। হঠাৎই একদিন ছোট্ট আঁকার খাতাটা একপাশে সরিয়ে রেখে সামনে বিরাট একটা ক্যানভাস বসিয়ে দিল কেউ, 'আঁকো। ঠিক পারবে তুমি, ভয় নেই।' কথাগুলোর মধ্যে কী জাদু ছিল কে জানে, সম্মোহিতের মতো চলল তুলি, একদিন শেষও হলো ছবি। নাম হলো 'ঘুঙুর', - এক স্বপ্ন, যা কখনও দেখাই হয়নি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""