দেখতে দেখতে এইটা আমার তৃতীয় বই। এই বইয়ের ভূমিকা লিখতে বসে কীভাবে যেন সরযুবালা দেবীর মতো আমার চোখের সামনেও একের পর এক উড়ে উড়ে আসছে অতীতের দৃশারা। বড্ড মনে পড়ছে ছোটবেলার কথা। আমার গল্পের প্রতি প্রেমে পড়ার গল্পগুলো।
ছোটবেলায় যার হাত ধরে ভূতের গল্পের প্রেমে পড়া তিনি আমার বাবা। শ্রীমান অনন্ত কর। মধ্য-উচ্চতার মজারু এক মানুষ। শুনেছি ছোটবেলা থেকেই গল্প-বলিয়ে হিসেবে আমার বাবার বেশ নাম-ডাক ছিল। বাবার যখন অল্পবয়স, তখন প্রতি সন্ধ্যায় বাচ্চারা বাবাকে ঘিরে গোল করে বসত গল্প শুনতে। বাবার গল্পের ঝুড়িতেও গল্প থাকত হরেকরকম। কোনোটা হাসি, কোনোটা রূপকথা, কোনোটা আবার গা ছমছমে ভূতের গল্প। বলাই বাহুল্য, ছোটবেলায় এই শেষ ধারার গল্পটিই ছিল আমার সবচাইতে প্রিয়।
হাজারও ছুতোয় বাবার থেকে যে কত গল্প শুনেছি তার হিসেব মেলা ভার।
তবে ভারী অদ্ভুত ব্যাপার, বাবা কখনও আমায় একই গল্প দু-বার শোনাননি। প্রত্যেকবার নিত্য-নতুন গল্প। এবং তার থেকেও অদ্ভুত বিষয় যা এখন ভাবলে অবাক হই, আমার বাবা কোনোদিনই কোনো গল্পের বই ছুঁয়ে দেখেননি। স্বাধীনতার আগেই ঠাকুরদা চলে এসেছিলেন ওপার বাংলা থেকে, কাপড় বুনে কোনোমতে তার সংসার চলত। অভাব-অনটনের সেই সংসারে লেখা পড়ার সুযোগই ছিল না, গল্পের বই তো অলীক স্বপ্ন। কিন্তু কীভাবে যেন আমার বাবাকে ভগবান একখানা আশ্চর্য ক্ষমতা দিয়েছিলেন। নিজের মন থেকে বানিয়ে-বানিয়ে গল্প বলার ক্ষমতা। বাবা তার গল্পের উপাদান জোগাড় করতেন বইয়ের পাতা নয় বরং চারপাশে ঘটে-চলা ঘটনা থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বাবার সেইসব গল্প আমায় বুঁদ করে রাখতো কল্পনার রাজ্যে। খুব চেষ্টা করতাম বাবার মতো করে গল্প বুনতে। বলাই বাহুল্য, আমার বর্তমানের লেখাতেও সেই শৈলীর সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েই গেছে।
আখিদার কাহিনিও শুরু এইরকম একদিন বাবার থেকে গল্প শোনার সময়েই। বাবা সেদিন ট্রেন নিয়ে কোনো একটা গল্প বলছিল। বাবার গল্প শুনতে শুনতেই হঠাৎ আখিদার প্লটটা মাথার মধ্যে ভেসে উঠল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""