এই কাহিনি এখন ছাপাখানায়। দুনিয়ার মানুষ পড়বেন ক-দিন পরেই। ত্রুটি যথেষ্ট আছে রচনাশৈলী আর বিষয়বস্তুতে। তার জন্যে দায়ী আমি। বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে বলে রাখি, যা দেখেছি, যা শুনেছি তার সবটুকু লেখা হয়নি। কুকুয়ানাল্যান্ড অভিযান প্রসঙ্গে আরও অনেক কিছু লেখবার ইচ্ছে রইল- পরে। এই কাহিনিতে শুধু বুড়ি ছুঁয়ে গেছি। যেমন, শেকল-বর্ম; লু-এর মহাযুদ্ধে প্রাণে বেঁচেছি শুধু এই জিনিসটার দৌলতে। যেমন, 'নীরব যারা' অথবা সেই অতিকায় 'পাথরের মূর্তি'- ছাদ থেকে চুনা পাথরের ঝুরি ঝুলছে ছুঁচোলো হয়ে- সেই গুহায় যাদের দেখেছি। আরও আছে। জুলু আর কুকুয়ানা সংলাপের মধ্যে যে পার্থক্য, তা সবিশেষ ইঙ্গিতবহ-অন্তত আমার কাছে। কুকুয়ানাল্যান্ডের উদ্ভিদজগৎ আর জীবজগৎ যেন সৃষ্টিছাড়া-অ্যান্টিলোপ হরিণই দেখেছি আট প্রজাতির- যা দেখিনি অন্য কোথাও; দেখেছি বিস্তর অদ্ভুত গাছপালা। অবাক হয়েছি ওদের সামরিক সংগঠন দেখে- জুলুল্যান্ডের 'চাকা' গোষ্ঠীর সামরিক সংগঠন সেই তুলনায় নেহাতই নগণ্য। সৈন্য জড়ো করতে পারে ঝটপট। খারাপ লেগেছে সারাজীবন বিয়ে-থা না করে সৈন্য হয়ে থাকার গা-জোয়ারি ব্যবস্থা, ঘর সংসার আর সমাজের বিধিনিষেধও অদ্ভুত, অথচ, ধাতু গলানো আর ধাতুতে ধাতু লাগানোর শিল্পে ওদের জুড়ি নেই। প্রমাণ, ওদের 'তোলা' ছোরা; ছুড়ে মারার ভারী ছোরা- লোহা পিটিয়ে তৈরি হয় ফলার মাঝখানটা, দু-পাশের ধারালো দিক দুটো হয় ভারী সুন্দর ইস্পাতের- মাঝের লোহার সঙ্গে পাশের ইস্পাত গালিয়ে মিশিয়ে দেওয়া হয় নিপুণ দক্ষতায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""