দুপুর দেড়টা বাজতেই মেজর চিৎকার করলেন, 'হল্ট।'
অর্জুন সামনে হাঁটছিল, অবাক হয়ে ফিরে তাকাল, 'কী হয়েছে?'
'নো মোর ওয়াকিং। আজ এখানেই টেন্ট ফেলো।' মেজর তাঁর কাঁচাপাকা দাড়িতে আঙুল ঢোকালেন। এখন এখানে ঠান্ডা প্রায় ছয় ডিগ্রিতে রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁর কপালে ঘাম জমেছে।
'এ কী। এখানে কেন? সন্ধে নামতে ঘণ্টা তিনেক দেরি আছে। আমরা তো মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা ট্রেক করেছি।' অর্জুন প্রতিবাদ করল।
'মাই ডিয়ার অর্জুন, একটা প্যাসেঞ্জার ট্রেন সাড়ে চার ঘণ্টায় যে দূরত্ব অতিক্রম করে একটা দ্রুত এক্সপ্রেস নিশ্চয়ই তার দ্বিগুণ পথ পেরিয়ে যায়। কথাটা হচ্ছে, কত ঘণ্টা হেঁটে এলাম সেটা বড় কথা নয়, কতটা পথ পেরিয়ে এলাম সেটা জানতে হবে।' মেজর দাড়ি থেকে আঙুল সরালেন, 'তা ছাড়া এখান থেকে আমি স্পষ্ট তিব্বত দেখতে পাচ্ছি।
'হাওয়াটা টের পাচ্ছ? একদম টিবেটিয়ান হাওয়া। নাইনটিন এইট্রিফাইভে আমি যখন লাসায় গিয়েছিলাম তখন এই হাওয়ার স্বাদ পেয়েছিলাম। চারধারে তাকিয়ে দেখো, পাহাড় আর পাহাড়। ওই তিব্বতের দিকটাই খোলা। এখানেই আজ রাত্রের মতো হল্ট করা যাক।' কাঁধ থেকে রুকস্যাকটা খুলে নীচে নামিয়ে রাখলেন তিনি।]
অর্জুন বুঝল বুঝিয়েও কোনও লাভ হবে না। মেজর স্বীকার করতে চান না যে তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন। আগের থেকে তাঁর শরীর বেশ ভারী হয়েছে। বাধ্য হয়ে অর্জুন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মালবাহকদের বলল, 'সাহেব চাইছেন যখন তখন আজ এখানেই বিশ্রাম নাও।'
মালবাহক তিনজন। তাদের মধ্যে যে বয়স্ক সে বলল, 'এখনও তো অনেকক্ষণ আলো থাকবে, আমরা যদি ওই পাহাড়টা পেরিয়ে গিয়ে বিশ্রাম করি তা হলে ভাল হয়।'
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""