প্রতিটা ভূমির নিজের কিছু গল্প আছে। অগ্নিণুরাণ বাংলা-ভূমির গল্প।
১২০৩ খ্রিস্টাব্দ সে বছর বর্ষার শুরুতেই মহারাজ লক্ষণসেন দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চলের বিদ্রোহী পাল-নৃপতি ডুম্মনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন বলে সুবিশাল নৌ-পদাতিক এবং হস্তীবাহিনী নিয়ে সমর-সজ্জার উদ্যোগ করছেন।
বখতিয়ার ততদিনে তাম্রকূট-অমরকূট জয় করে শোন নদী পাড় হয়ে দুর্গম অধুনা ঝাড়খন্ডের অরণ্যভাগের উপর দিয়ে ঝড়ের বেগে অশ্ব হাঁকিয়ে বঙ্গ দেশের অভিমুখে ছুটে আসছে।
রাজাধিরাজ লক্ষ্মণসেনের দৃষ্টিতে, বখতিয়ার এখানে দস্যু ও হস্তারক। আত্রাই তীরের ভূমিপুত্র নরুনের দৃষ্টিতে, লক্ষ্মণসেন এখানে হস্তারক ও লুটেরা। রাজপুত্র নরুনের দৃষ্টিতে লক্ষ্মণসেন অভিযুক্ত হলেও, সেই চোখে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অপ্রাপ্তি জড়িয়ে ছিল। অন্যদিকে ইতিহাসের পাতায় মহারাজ লক্ষ্মণসেন একজন মহান ও প্রজাহিতৈষী শাসক বলেই বিবেচিত হন।
অন্যদিকে, আত্রাই তীরের পরিত্যক্ত রাজপুত্র নরুনের ভাবনায় উঠে আসছে পুরনো পিতাদের টগবগে অহম। যুদ্ধ দিনের দুন্দুভি- "আমি কখনো ঘুমাই না। আমার ঘুম আসে না। দিবারাত্রি অষ্টপ্রহর ঘুমে কিবা জাগরণে নিজেকে খুব ধীরে, খুব গোপনে তৈরি করছি আমি। যারা আমার রাজ্যপাট এবং আমার ঈশ্বর এবং প্রেমিকাদের চুরি করে নিয়ে গেছে, আমি তাদের বুকের পাঁজায় শাণিত তরবারি ঠেসে দিয়ে স্বর্গীয় অপ্সরাদের চুম্বনের আনন্দ পাই- যেদিন আমার সত্যিকারের রূপ দেখবে- আমার মৃগচর্ম পরিহিত পাদুকাযুগলে চুম্বনের নেশায় লালায়িত হবে যাবতীয় কামাহত প্রেয়সীরা। আমি সেই প্রখর পুরুষ-
প্রেম ও যুদ্ধ দিনের গল্প অগ্নিপুরাণ। প্রেম এখানে সাদিম, অনাবৃত, অসংযত। যুদ্ধ এখানে অবিশ্রান্ত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""