রজনী ফুরাবে এখনই। আঁধার মিলিয়ে যাবে অতি শীঘ্র। মিলায় না কেবল অন্তরের স্বप। নির্বাপিত সেজ, ঋদ্ধাবারের১ মশাল। নির্বাপিত হয় না কেবল হৃদয়ের অগ্নি।
পুব আকাশে আলোর রেখা ফুটবে মুহূর্ত পরে। পিতৃদেব! কিছুকাল পূর্বেও যে-পরিচয় ছিল অগোচর। শৈশব হতে ভাবনায় বিহ্বল হয়েছি কেবল, কী করে চর্মচক্ষে চেয়ে থাকি ওই প্রবল প্রতাপের পানে! কেন আমার ক্রোধে সূর্যের তাপ তীব্র হয়। এ কি আমার শক্তি, না সূর্যদেবের কৃপা?
আত্মপরিচয় জানে কতজন? সে গূঢ় তত্ত্বের সন্ধান সকলে করেও না। তবু প্রত্যেকেরই আছে পার্থিব পরিচয়-পিতা-মাতা, পরিবার। অথচ কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে দণ্ডায়মান আমি, ভাবতে পারি না, কী আমার পরিচয়! পিতার আশীর্বাদ, সহজাত কবচকুণ্ডল অর্পণ করেছি দেবরাজের হাতে। জন্মদাত্রীকে 'মাতা' সম্বোধনের সুযোগ নেই। মুখোমুখি হবে আজ সহোদর অনুজ, আশৈশব শত্রুজ্ঞান করেছি যাকে।
বন্ধন কেবল মিত্রের সঙ্গে, যে দিয়েছে সম্মান, প্রথমবার। সে স্থলেই আমার ঋণ। আমার দায়িত্ব, কর্তব্য। সে আমার ধর্ম। অন্য চিন্তার অবসর নেই।
প্রভাত সমাগত, সৈন্যদল সজ্জিত। তবু সৈনাপত্যের২ দায় স্কন্ধে তুলে সমর-শঙ্খ বাজানোর পূর্বে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হয়, 'রাধেয় নই, আমি কৌন্তেয়।'
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""