১ ৯২৬ থেকে ২০১৬-দীর্ঘ এই নব্বই বছরের মধ্যেও মহাশ্বেতা দেবী তাঁর প্রতিশ্রুত ধারাবাহিক আত্মকথা তথা স্মৃতিকথাটি পূর্বাপর লিখে উঠতে পারলেন না। আমরা যারা বড়ো আশা করে ছিলাম, নিরাশ হলাম। সময় থাকতে মহাশ্বেতা দেবী যে আমাদের মনোমতো চাহিদামতো রচনাটি লিখে উঠতে পারলেন না, তার পিছনে নিশ্চয়ই সঙ্গত কারণ আছে। থাকতেই হবে। তবে,
আত্মকথা-জীবনকথা-স্মৃতিকথা, যে-নামেই ডাকা হোক না কেন, সেই রচনার মধ্যে পাঠকের প্রাপ্তির যে প্রত্যাশা থাকে সেটি কিন্তু তিনি সত্তর দশকের শেষ দিক থেকেই পূরণ করে আসছেন-যদিও আমাদের চেনা ভঙ্গিতে, পরিচিত আঙ্গিকে আমরা তা পাইনি। মহাশ্বেতা অনুরাগী কোনো কোনো পাঠকের স্মরণ থাকতে পারে, সেই ১৯৭৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর স্মৃতির ঝাঁপিটি খুলেই রেখেছেন। যা থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নানা নামে নানা আঙ্গিকে লেখা তাঁর পরিবার পরিজন ব্যক্তিজীবন, সমাজপরিবেশ সাহিত্যচর্চা সমাজকর্ম, এক কথায়, যে যে উপাদানে পূর্ণাঙ্গ মহাশ্বেতার অবয়বটি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, তার প্রায় সব অনুপুঙ্খই অকপটে প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান গ্রন্থ ওইসব রচনার সংকলন।
গ্রন্থবদ্ধ ক্রম অনুযায়ী: এক জীবনেই
(১৯৯৬-২০০২); চিত্রশালা ('৭৭-৮২);
বাবা, মা, অনীশ (১৯৮০); অজানা ভারত
(৮০-৮১); পথ চলতি (১৯৮১); বকলমে
(৮৭-৮৮): তুতুল (১৯৯১); আমাদের দূরাকাঙ্ক্ষী ভ্রমণ (২০০২), ভাঙা সময়
শান্তিনিকেতন (২০০১); আমি আর আমার
(২০০৩), ছিন্ন পাতার ভেলা (২০০৬) এবং স্মরণ (১৯৭৬-২০১৪)।
এই বচনাগুলি একত্র করলে আমাদের বাঞ্ছিত একটানা আত্মকথার প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হবে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""