বাণিজ্যিক রেলগাড়ির সে একেবারে শুরুর জমানা। এই সময় ১৮৩৩ সালে ব্রিস্টল থেকে লন্ডন অবধি ১১৬ মাইল লম্বা একটা রেলরাস্তা বানাবার জন্য সমীক্ষার বরাত দেয়া হল সাতাশ বছরের ছোকরা ইসামবার্ড কিংডম ব্রুনেল-কে। সে যুগের তুলনয় এত দীর্ঘ রেলপথ ছিল যাকে বলে 'ফিউচারিস্টিক।' ব্রুনেলের মা ইংরেজ, বাবা ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার। টেমসের তলা দিয়ে টানেল গড়ার কাজে বাবার কাছে শিক্ষানবিশী করে হাত পাকিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তিন মাসের মধ্যে ব্রুনেলের নকশা তৈরি। সে নকশা পাশ হয়ে ১৮৩৫ সালে 'মহান পশ্চিম রেল' বা 'গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে' তৈরি করবার জন্য আইন পাশ হল পার্লামেন্টে। পরের বছর তেহেকে ব্রুনেলের নেতৃত্বে শুরু হল রেলের ইতিহাসের প্রথম মহাকাব্যিক নির্মাণকর্মের পালা। বাণিজ্যিক রেল পরিবহনের দুনিয়ায় বহু প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কৌশলের জন্ম দিয়েছিল 'গ্রেট ওয়েস্টার্ন 'রেলওয়ে' বা জি-ডবলু-আর। প্রথম ভায়াডাক্ট, লাইন বরাবর প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন, ভ্যাকুয়াম প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রথম 'অ্যাটমসফেরিক রেল', প্রথম ওয়েটিং রুম, প্রথম লেডিজ কমপার্টমেন্ট, রেল ও সমুদ্রযাত্রাকে এক সুতোয় জুড়ে দেওয়া, এহেন অজস্র মৌলিক অবদান রেখেছে এই রেলপথ। এক কথায় আজকের দুনিয়ার বাণিজ্যিক রেলপরিবহনের গল্পকে জানতে গেলে এই রেলওয়ের বিবর্তনের গল্পটা জানা জরুরি। জি-ডবলু-আর-এর শতবর্ষে সেই কাজটাই করেছিলেন হিথ রবিনসন। করেছিলেন একগুচ্ছ কার্টুনধর্মী ছবির মাধ্যমে। 'কার্টুনধর্মী' শব্দটার সঙ্গে যে হালকা হাসিঠাট্টার একটা ভাব জড়িয়ে থাকে, এ ছবিগুলো সেই চরিত্রটাকে ধরে তো রেখেছেই, কিন্তু তারই পাশাপাশি, এর অধিকাংশ ছবিই হয়ে উঠেছে গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের একেকটা মাইলস্টোনের ইতিহাসের একেকটা নিখুঁত অধ্যায়। ...
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""