রুণাদা আরও গল্প করে, যে ইংরেজ আমলে পুলিশ এসে আমাদের বাড়ি লুঠ করেছিল, বাড়িতে আগুন দিয়েছিল দু'-দু'বার, কারণ দাদাশ্বশুরমশাই বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন। তখন রান্না করার জন্য উপকরণ তেমন কিছু নেই, এদিকে বড় পরিবার, বেঁচে তো থাকতে হবে। এ তল্লাটে সর্ষের তেলের ঘানি আগে তেমন ছিল না। হয় দীর্ঘ পথ হেঁটে নতুবা ওড়িশা কোস্ট ক্যানাল সাঁতরে পার হয়ে অন্য জায়গা থেকে তেল কিনে আনতে হত। এদিকে ঘি যে তৈরি হবে, গরু গোয়াল সব আগুনে শেষ। তাই যখন তেলের ভাণ্ডার কমে আসত, তখন রান্নার পদ্ধতিও যেত বদলে। সব আনাজ কেটে ধুয়ে শুকনো কড়ায় তাপ কমিয়ে ভাজা হত। তারপরে মশলাপাতি, নুন হলুদ মিশিয়ে একটু একটু জল দিয়ে কষা হত। তরকারি নামানোর আগে ওপর থেকে অল্প তেল ছড়িয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হত। ঐভাবে রান্না করলেও নাকি তরকারিতে স্বাদ পাওয়া যায়। কারণ রুণাদা বলে তেলের তো আলাদা কোনো স্বাদ নেই। স্বাদ থাকে মশলায় আর সুবাস থাকে ফোড়নে। কথাটা তো ভুল নয়। যখন ভাজা মশলার গুঁড়ো লাগে, তখন মশলাগুলো তো শুকনো চাটুতেই ভাজা হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""