পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের উত্থান এবং পতন ঠিক কীভাবে হয়েছিল, সেটা এখনও রহস্যাবৃত। ১৯৯৬ই ধরুন। কেশপুরে সিপিএম জিতল বিপুল মার্জিনে, আর তার কিছুদিন পরেই জানা গেল তৃণমূলের 'যোদ্ধা'রা বিদ্রোহ করে জায়গাটা দখল করে ফেলেছে। মমতা বিরাট জনসভা করে কেশপুরকে সিপিএমের শেষপুর ঘোষণা করে দিলেন। হলও প্রায় তাই। ২০০০ এর উপনির্বাচনে পাঁশকুড়া লোকসভা প্রথমবারের জন্য দখল করল তৃণমূল। তখন অবশ্য বলা হত জনযুদ্ধ, পরবর্তীকালে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে মাওবাদী নামে। কখনো একের বিরুদ্ধে এক, কখনো একের বিরুদ্ধে দুই। এক সময় সি পি এম সেখানে জিতেছে বিপুলে ভোটে। একের পর এক নির্বাচনে। জয়ী জনযুদ্ধ? তৃণমূল? ইতিহাস নানা কথা বলে। নথিভুক্ত ইতিহাস। যে লেখে তার। সত্যমিথ্যা জানা মুশকিল। তবে যেটা একদমই মিথ্যে নয়, সেটা হল তিনটে শক্তিই কার্যকর ছিল ওই এলাকায়। মাওবাদী সেই কিস্যার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছিল ছোটো আঙরিয়া নামের এক অখ্যাত গ্রামে। যুদ্ধে একগাদা লোক মারা গেল জনৈক বক্তার মন্ডলের বাড়িতে। জায়গাটা বিখ্যাত হয়ে গেল লাশের উপর দাঁড়িয়ে। পরেরটা শুরু হয় পশ্চিমে। পৃথিবীর আর যেকোনো জায়গায় হলে এই নিয়ে গাদা থ্রিলার, ওয়েব-সিরিজ নেমে যেত। কিন্তু আমরা ইতিহাস-বিস্মৃত, ওসবের ধার ধারিনা। খোঁড়াখুঁড়িও হয়নি বিশেষ। একদমই হয়নি অবশ্য না। সাংবাদিক বিতনু চট্টোপাধ্যায় এই নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখছেন। এলাকাটা হাতের তালুর মতোই জানেন। জানেন ঘটনাপ্রবাহ। মাওবাদী উত্থানের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে তাঁর এই উপন্যাস।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""