তাঁকে যখন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হল, তখন জানা গেল, সুচিত্রা সেন আসবেন না। তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন। কাউকে দেখা দিচ্ছেন না। শোনা গেল, এই সময়ে তিনি ঘরের লোকদেরও দেখা দিচ্ছেন না। নিজের ঘরে দরজা আটকে রয়েছেন। তাঁর মেয়ে মুনমুন সেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারটি আনতে যেতে চেয়েছিলেন। শোনা যায়, সুচিত্রা সেন তাঁর দরজার নিচে দিয়ে একটি চিরকুট পাঠিয়েছেন মেয়ে বরাবরে। লিখেছিলেন, না, তিনি এ পুরস্কারটি নিতে পারেন না। সুচিত্রা সেন সেজে থাকতে তাঁর আর ভালো লাগছে না। ফিনিস।
শেষ বয়সে এসে এরকম বৈরাগ্য হতেই পারে বড়ো বড়ো মানুষের। চিরকুটের লেখা সন্দেহাতীতভাবে সেকথাই প্রকাশ করছে। কিন্তু 'সেজে' শব্দটা দ্বিতীয় বাক্যে প্রবেশ করে কিছু সন্দেহ জাগিয়ে তুলেছে। যিনি সারাজীবন রুপালি পর্দায় বঙ্গদেশে তাবত বুড়ো যুবক তরুণদের স্বপ্নের নায়িকা হয়ে আছেন, বুড়ি যুবতী তরুণীরা শয়নে স্বপ্নে জাগরণে সুচিত্রা সেন সেজে থাকতে ভালোবাসেন, সেই সুচিত্রা সেন কেন লিখবেন, তিনি আর সুচিত্রা সেন সেজে থাকতে ইচ্ছে করছেন না। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হয়। তাহলে তিনি কি সত্যি সত্যি সুচিত্রা সেন ছিলেন না? তিনি কি অন্য কেউ?
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""