66 বর্গি আক্রমণ আসত ঘূর্ণিঝড়ের মত। লুঠমার করে কেড়েকুড়ে নিয়ে ধাঁ করে সটকে পড়ত। আলিবর্দি খানের আমলে ঘন ঘন মারাঠা বর্গিদের আক্রমণ বাংলার অর্থনীতি শিল্প বাণিজ্যকে তছনছ করেনি। তাদের লুঠতরাজ বাংলাকে বিপর্যস্ত করেছিল ঠিকই, কিন্তু আক্রমণ ছিল সাময়িক এবং তাদের একটা নির্দিষ্ট পথ ছিল। পথের দু-ধারেই চলত তাদের তাণ্ডবলীলা। বর্ষা শুরু হবার আগে ওরা ফিরে যেত। বর্ষা শেষ হলে আবার ফিরে আসত। কৃষকেরা এই অবসরে ফসল তুলে ফেলতে পারত।
এই মতে জত সব গ্রাম পোড়াইয়া। চতুর্দিকে বরগি বেড়াএ লুটীয়া।। রূপি দেহ রূপি দেহ বলে বারে বারে। রূপি না পাইয়া তবে নাকে জল ভরে।।
(মহারাষ্ট্রপুরাণ)
তবে মারাঠাদের সঙ্গে ইংরেজ লুটেরার ব্যাপক তফাত। ইংরেজদের লুঠ ছিল রীতিমত লুঠনীতি। নৌকো বোঝাই করে করে মুর্শিদাবাদ থেকে ধারাবাহিক চালান। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠে শয়ে শয়ে কুঠি। কুঠিয়াল গোমস্তা আর ইজারাদারের দাপটে বাংলার জমিদার আর সওদাগরদের মেরুদণ্ড ভেঙে গেল। পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ল বাংলার অর্থনীতি।
আগের বছর প্রচণ্ড খরায় ফসল ফলেনি। জমি ফেটে চৌচির। ঘরে যা ফসল ছিল-খাজনা মেটাতেই বেরিয়ে গেছে। সবচেয়ে যে থুখুড়ে বুড়ো, সেও মনে করতে পারল না-এমন খরা সে আগে কোনোদিন দেখেছিল কিনা! এল মনুন্তর।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""