প্রচলিত ধারণা, দেবস্থানে পূজারি বা পুরোহিত হবেন ব্রাহ্মণ। কিন্তু এ বইয়ের লেখক রাঢ়বাঙলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সময় লক্ষ করেছেন অধিকাংশ জনপ্রিয় দেবস্থান বা ঠাকুরথানে পূজারি হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন অব্রাহ্মণ পুরোহিত। কোথাও রয়েছেন লোধা-শবর পুরোহিত, কোথাও বাগদি, কোথাও বাউরি, কোথাও লোহার, কোথাও জেলেকৈবর্ত আবার কোনও থানে রয়েছেন কুড়মি পুরোহিত। কোনও থানে রয়েছেন একই সঙ্গে শবর ও ব্রাহ্মণ পূজারি। কোনও থানে পুরোহিতই নেই। ভক্তরাই সেখানে পুরোহিত।
এই অব্রাহ্মণ পূজিত ঠাকুরথানগুলিতে কেবল এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ পুজো দেন, তা কিন্তু নয়। এই থানগুলিতে অব্রাহ্মণ পূজারির মাধ্যমে দেবতাকে অর্ঘ্য প্রদান করেন ব্রাহ্মণ, অব্রাহ্মণ, অ-আদিবাসী, আদিবাসী সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। এই পুরোহিতদের জানা নেই কোনও মন্ত্র, জানা নেই শাস্ত্রীয় নিয়মবিধি। যুগ যুগ ধরে পালন করে আসা নিজেদের রীতি-নিয়মে এঁরা দেবতার স্তুতি করেন, নিজেদের ভাষায় দেবতাকে আহ্বান করেন, নিজেদের ভাষায় যজমান ও ভক্তের আপদ-
বিপদের কথা, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা দেবতাকে নিবেদন করেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""