অনেক কষ্টে লিখি।
লিখলে দক্ষিণ ভারতের পথে হারিয়ে যাওয়া আমার প্রপিতামহ শ্রান্ত চোখে আমাকে দেখেন। অনেক কষ্টে লিখি।
লিখলে, আমার প্রমাতামহী ঝরের রাতে জঙ্গল থেকে আম কুড়িয়ে আনতে যাওয়ার সময় আমার দিকে ফিরে তাকান। লিখলে, আমার মাতামহ মাইলের পর মাইল পথচলা থামিয়ে আমায় দেখে নিয়ে তবেই কাঁটাতার পার করেন। অনেক কষ্টে লিখি। আমার মাতামহী চটজলদি সোনার বালা, সোনার দুল স্তনের নিচের লুকিয়ে ফেলে কোলের ছা নিয়ে ঘর ছাড়ার আগে একবার দেখে যান আমি কী- কীই না লিখলাম। আমার নিরক্ষর পিতামহী ছোটো ছোটো পায়ে বিক্রমপুরের এঁদো পুকুরপাড়ে রাজহাঁসের পিছু ধাওয়া করতে করতে থমকে গিয়ে দেখে নেন আমার লেখা কতদূর হল। আমার পিতামহ বউ বাচ্চাসহ শিয়ালদহ স্টেশনে বসে মানুষের মাথা গুণতে গুণতে দেখে নেন কেমন লিখলাম।
অনেক কষ্টে লিখি, আমার লেখা দেখবে বলে বাবা জুতোর পেরেক ছাড়াতে দেরি করে। হেঁটে যায়, হেঁটেই যায়। মা কাপাস তুলোয় হাত ভরিয়ে নিয়ে উকি দিয়ে দেখে কতটা লিখলাম। কোথাও কোনো ফাঁকি দিলাম কি না। তাই অনেক কষ্টে লিখি। কড়া পাহারার মাঝে কাঠ হয়ে থাকি, পাছে কিছু বাদ পড়ে। পাছে কিছু অহেতুক মনে করি। এক একটা কমা, এক একটি দাঁড়ি। এক এক প্রশ্নচিহ্ন? কোলেপিঠে করে, অনেক কষ্টে লিখি।
লিখতে বসলে আমার ঝুঁকে পড়া কাঁধের পিছন থেকে, বাবা মা পিতামহ পিতামহী মাতামহ মাতামহী প্রপিতামহ ও প্রমাতামহীর উৎকণ্ঠিত মুখ দেখা যায়,- আমার লেখার প্রতিটা বেঠিক বানানকে যাঁরা কিনা এযাবৎ সিস্টেমের প্রতি বিদ্রোহ ভেবে ভুল করে এসেছেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""