ভারতমাতার সম্মান রক্ষার মানসে, দেশমাতৃকার মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলনে যাঁরা নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আনয়ন হেতু প্রকৃত দেশপ্রেমিকের মর্যাদা লাভ করে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বর্তমানের রাজনীতিকরা নিজেদের ক্রমানুসারী নোংরা খেলায় মত্ত হয়ে এঁদের প্রায় ভুলেই গেছেন। প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা তাঁরা, যাঁরা আত্মবলিদানের মাধ্যমে ভারতমাতার সম্ভ্রম রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। মনে রাখতে হবে, প্রকৃত মানুষ রূপে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে এইসব দেশপ্রেমিকদের বিস্মৃত হলে চলবে না। তবে রাজনৈতিক নেতা হোন কিংবা দেশপ্রেমিক হোন- ভারতবর্ষের বক্ষ মাঝে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র 'বাঘা যতীন'। সম্পূর্ণ নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (খ্রিঃ ১৮৭৯-১৯১৫)।
যতীন্দ্রনাথের একান্ত সুহৃদ ও ভ্রাতৃপ্রতিম শহীদ বসন্ত বিশ্বাস (খ্রিঃ ১৮৯৫-১৯১৫)-এর জ্ঞাতি ভাই (খুড়তুতো দাদা) ছিলেন আমার ঠাকুরদাদা কাঙ্গালীচরণ বিশ্বাস (খ্রিঃ ১৮৯১-১৯২৩)। আমার ঠাকুরমা যশোদামণি বিশ্বাস (খ্রিঃ ১৯০৫-১৯৭৩)। তিনি (যশোদামণি) তাঁর শ্বশুর মহাশয় নবীন বিশ্বাস (খ্রিঃ ১৮৬৮-১৯৩২)-এর নিকট থেকে 'বাঘা যতীন' সম্পর্কিত অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। জীবনের ঊষালগ্নে ঠাকুরমার নিকট থেকে 'বাঘা যতীন' সম্পর্কিত তথ্যে আমি উদ্দীপ্ত হই এবং পরিণত বয়সে সেই তথ্যসঞ্জাত উপাদান দিয়ে ইমারত গড়তে সচেষ্ট হয়েছি। আমার ইমারত রূপ জীবনীগ্রন্থ 'মহান বিপ্লবী বাঘাযতীন'। শহীদ বসন্ত বিশ্বাসের পূর্বপুরুষ এবং আমার পূর্বপুরুষ যথাক্রমে দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস। বিষ্ণুচরণ জ্যেষ্ঠ ও দিগম্বর কনিষ্ঠ। ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে অত্যাচারী ইংরেজ সাহেবদের বিরুদ্ধে নীলকর আন্দোলনের প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বন্বয় ক্ষত্রিয় বংশজাত জমিদার দুই ভ্রাতা বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস। এঁদের নিবাস ছিল বর্তমান নদীয়া জেলার চৌগাছায়। (এটি পূর্বে যশোহর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।)
বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অধিকাংশই বিপ্লবীদের জীবনী গ্রন্থ পাঠে অনীহা বোধ করে থাকে। অবশ্য একথা সত্য যে জীবনী গ্রন্থ বা প্রবন্ধ সাহিত্যে সরসতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, কম্পিউটার-ইন্টারনেট যুগের শিক্ষিত সমাজ যাতে জীবনীগ্রন্থ পাঠে আগ্রহী হয় সেই লক্ষ্যে এ গ্রন্থ যথাসম্ভব উপযোগী করে রচিত হয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""