বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের প্রায় সূচনাতেই যুবা তথা নব্য তথা নবকুমার বলেছেন "সমুদ্র দেখিব বড় সাধ ছিল.... আহা। কী দেখিলাম। জন্মজন্মান্তরেও ভুলিব না।" সমুদ্রের যে অসাধারণ রূপবর্ণনা তা আমাদের মুগ্ধ করে।
নবকুমার রান্নার জন্য কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তীরে নামলেন এবং জোয়ারের অভিঘাতে মাঝিরা নৌকা ছেড়ে দিতে বাধ্য হল। "নবকুমার সেই ভীষণ সমুদ্রতীরে বনবাসে বিসর্জিত হইলেন।" পরিচ্ছেদের সমাপ্তিতেই রয়েছে লেখকের সেই প্রবাদসম উক্তি- "তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?" এই
এই স্থলেই নবকুমারের কাপালিক দর্শন এবং নবকুমারের ভাগ্যাকাশে কালো মেঘের সঞ্চার। এরপর কপালকুণ্ডলার সঙ্গে নাটকীয় সাক্ষাৎ, কাপালিকের খপ্পর থেকে সাময়িক পরিত্রাণ, বাড়ির পথে যাত্রা, পথমধ্যে অন্য স্ত্রীলোকের সঙ্গে যোগাযোগ, ভাগ্যাকাশের কালো মেঘ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। স্ত্রীলোকটির সঙ্গে (মতিবিবি) কপালকুণ্ডলার দেখা হওয়া, তৎপরবর্তীতে কপালকুণ্ডলাকে নিয়ে নবকুমারের স্বদেশযাত্রা, সংসার দ্বারে কপালকুণ্ডলার পদচিহ্ন, কিন্তু সংসারজীবনে কপালকুণ্ডলা অনুপযুক্ত।
শ্যামাসুন্দরী- "তোমার সুখ কি?" কপালকুণ্ডলা- "সুমদ্রতীরে...
বেড়াইতে পারিলে আমার সুখ জন্মে।" এরপর মতিবিবি প্রসঙ্গে ইতিহাসের
বিরাট প্রেক্ষাপটের বিস্তৃতি, মতিবিবির সপ্তগ্রাম আগমন, নবকুমারের সাথে সাক্ষাৎ ও আত্মপরিচয় দান। এক
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসে ঘটনার ঘনঘটা পাঠককে এক মুহূর্তের জন্যও অন্যমনস্ক হতে দেয় না।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""