অশ্বথামা মহাভারতের সেই মানুষটির নাম যিনি সমগ্র জীবন শিরদাঁড়া সোজা রেখে যুদ্ধ করলেন। ছলনার আশ্রয় একদিনও নিলেন না। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, তাঁকে দাবার চালে বন্দি করে অভিশপ্ত জীবনে আজও বাঁচিয়ে রাখলেন। কপাল থেকে উপড়ে নেওয়া মণির ক্ষততে মলমের প্রলেপও লাগাতে দিলেন না। যন্ত্রণাকাতর মুখে আজ এখানে কাল সেখানে দরজায় কড়া নাড়া সেই জীবন। অথচ বীর যোদ্ধা তিনি। বীরের সম্মান পেলেন কবে?
অশ্বত্থামা অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যের একমাত্র পুত্র। কুলগুরু কৃপাচার্যের বোন কৃপির সন্তান। মহাভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ঋষি ভরদ্বাজের আদরের নাতি। অহিছত্রকে রাজধানী করে পাঞ্চালার উত্তরাঞ্চলের রাজা। মহারথী অবশ্যই। ভগবান শিবের আশীর্বাদ পেয়ে তিনি চিরঞ্জীবী। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের চূড়ান্ত তথা সর্বশেষ সেনাপতি। পিতার ছলনা মৃত্যুর শোক ও ক্রোধে উন্মাদ হয়ে এক রাতের আক্রমণে পাণ্ডব শিবিরে উপস্থিত সমস্ত যোদ্ধাদের একাকী বধ করলেন। উদ্দেশ্যে ছিল পঞ্চপাণ্ডবকে হত্যা। কপাল
মন্দ, সে রাতে পঞ্চপাণ্ডব শিবিরের বাইরে। অন্ধকারে পাঁচ পাণ্ডবের পরিবর্তে হত্যা করলেন তাঁদের পাঁচ পুত্রকে। পিতৃহন্তাকারী ধৃষ্টদ্যুম্নকে অস্ত্রের আঘাত করলেন না। খালি হাতে লড়াই করে, তাঁকে হত্যা করে, তাঁর স্বর্গ যাত্রার পথ বন্ধ করলেন। ধৃষ্টদ্যুম্ন বার বার অনুনয় করে বলেছিলেন, অস্ত্রের আঘাতে
মৃত্যুর বাসনা। অশ্বত্থামা সে কথায় কান দেননি। ক্রোধের বশে কিল, চড়, লাথি এভাবেই ঘায়েল করলেন তাঁকে। সেকালে এভাবে মৃত্যু হলে মনে করা হত, স্বর্গের পথ বন্ধ, নরকের পথ খোলা। নরকের পথেই পাঠালেন ধৃষ্টদ্যুম্নকে। গ্রন্থে বিস্তারিত সব সংবাদই রেখেছি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""