সৃষ্টির মাঝেই আমরা স্রষ্টাকে জানতে চেষ্টা করি, মনে মনে তাঁর একটা অবয়ব তৈরি করে ফেলি, কিছুতেই তার বাইরে আমরা বেরোতে চাই না, তাই স্রষ্টা অধরাই থেকে যান। স্রষ্টাকে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করতে পারলেই আমারা ধন্য, তিনি তখন আর কোনো ব্যক্তি নন। ব্যক্তি-রবীন্দ্রনাথ কে অনুসন্ধান করার উদ্দেশ্যেই এই নিবন্ধ গ্রন্থ 'প্রেমালোকে রবি'। এই নিবন্ধ গ্রন্থটি কোনো রবীন্দ্র-প্রেমিক কিংবা কোনো পাঠককে কোনোভাবে আঘাত করে থাকলে, আশা করি পাঠককুল আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য আমার নেই, আমি কেবল আমার মতো করে আমার রবীন্দ্রনাথকে এঁকেছি 'কবিরে পাবে না তাহার জীবন-চরিতে'।
'কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না...' কবি এখানে কাকে দেখতে চাইছেন, ঈশ্বরকে না তাঁর মানসীকে, এই দ্বন্দ্ব নিয়েই রবীন্দ্রনাথের প্রেম-দর্শন। কবি জানেন না কী খুঁজছেন, কাকে খুঁজছেন, কোথায় যেতে চাইছেন, কার খোঁজে। কবি সারাটা জীবন খুঁজেই চলেছেন, তবুও কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছাতে পারছেন না। কেন, খুঁজতে খুঁজতে নিজেকেই বারবার হারিয়ে ফেলছেন।
রবীন্দ্র-গবেষকদের তথ্য থেকে রবীন্দ্র-জীবনে মোট দশ জন নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়, তারমধ্যে নতুন বৌঠান কাদম্বরী দেবী, বোম্বের মারাঠি কন্যা আন্নাপূর্ণা তড়খড়, স্কটল্যান্ডের লুসি স্কট, বেনারসের রানু অধিকারী ও আর্জেন্টিনার ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো, এই পাঁচ জন নারীকে নিয়েই এই নিবন্ধ গ্রন্থে বিশদে আলোচনা। কবির সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেকের সম্পর্কের রসায়ন কি ছিল, কিরূপ ছিল সেই প্রেমের রং ও রূপ, সেটা তথ্য সহকারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""