অলৌকিক গল্পের উপরে চিরকালই মানুষের আকর্ষণ। যা কিছু সাদা চোখে যায় না, তার উপরেই মানুষের চিরকালীন কৌতূহল। তাই তো হাড় হিম করা কনকনে শীতের রাতে অথবা কোনো জ্বলন্ত গ্রীষ্মের ছমছমে, নির্জন দুপুরে, ভূতের গল্প মানুষ সব সময়েই ভালোবাসে। সেই চাহিদা থেকেই বাংলা সাহিত্যে অলৌকিক গল্পের অনুপ্রবেশ। অতীতের লেখকরা যেমন অলৌকিক গল্প লিখেছেন, বর্তমান সময়ের লেখকরাও তেমনই অলৌকিক গল্প লিখছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের চরিত্র বদলেছে, বদলেছে গল্পের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সাহিত্যের অনান্য ধারার মতোই অলৌকিক গল্পও কোথাও গিয়ে সমসাময়িক সমাজের কথা, মানুষের কথা বলে। ভয়ের মধ্য থেকেও, জয় হয় সত্যের ন্যায়ের।
এই সংকলনটিতে রয়েছে মোট সাতটি গল্প। প্রচলিত হরর গল্পের মতো নয় এই সংকলনের গল্পগুলি। প্রতিটি গল্পেই ভয়ের কারণ রয়েছে। কায়াহীন, অতৃপ্ত আত্মারা অকারণে কোনো মানুষের ক্ষতি করেনি। বরং জীবিত অবস্থায় সে যে প্রতারণা পেয়েছে, অথবা যে বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি সে হয়েছে, জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে সে সেই অন্যায়েরই শাস্তি দিয়েছে।
সংকলনের প্রথম গল্প বর্গি যক্ষী। গল্পটির সূচণা হয় খ্রিস্টীয় ১১শতকে বিহারের কৃর্কিহাবে পাওয়া এক দেবীমূর্তিকে কেন্দ্র করে। বাংলায় বর্গিদের আক্রমণের সময় সেই মূর্তিই ছিল বর্গি সেনাপতি শীষ রাওয়ের আরাধ্য দেবী। বর্গিদের হারিয়ে বাংলারই এক প্রবল, প্রতাপশালী জমিদারের হাতে আসে এই তারামূর্তি। এই দেবীর পায়ের তলায় রয়েছে এক যক্ষী। বর্তমানে সেই জমিদার বংশের বধু ঐশী আসে তাদের গ্রামের বাড়িতে আর তারপরেই শুরু হয় নানা অলৌকিক কার্যকলাপ। ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটেছে এই গল্পে।
দ্বিতীয় গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটা ডায়েরি। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় এক অখ্যাত তৃতীয় লিঙ্গের জমিদার তনয় চন্দ্রকান্তের ডায়েরি নিয়েই এই গল্প। ডায়েরিতে দেওয়া ধাঁধাঁর সূত্র ধরেই তার উত্তর পুরুষ উদ্ধার করে এক বিপুল গুপ্তধন। স্বাধীনতার সংগ্রামের উত্তাল সময়ের সরণী ধরে গল্প এসে শেষ হয়েছে বর্তমান সময়ে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""