আমি একটা ছোট ঘরে বসে আছি। ঘরটা বরফশীতল। আমার হাতে হাতকড়া। পায়ে শেকল। কবজি আর গোড়ালিতে কালশিটে পড়ে গিয়েছে।
আমি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি। কান্না চাপতে চাইছি। গত কয়েক ঘণ্টা আমায় নিয়ে লাগাতার ঠাট্টাতামাশা করেছে ইজরায়েলি সেনা। আমায় বিদ্রূপ করেছে। কিন্তু আমায় কাঁদাতে পারেনি। ওদের একটু হতাশই করেছি। এখন আমি এই ঘরটায় একা। যদিও এতটুকুও গোপনীয়তা নেই।
ঘরের দু'দিকে দুটো ক্যামেরা বসানো। একটা ক্যামেরা কিছুটা বাথরুমে তাক করা। বাথরুমে যাওয়া জরুরি। কিন্তু গেলেই ছবি উঠে যাবে। এই ভয়ে তখন থেকে চেপে বসে আছি। মনে হচ্ছে মূত্রথলি ফেটে যাবে।
কীভাবে এই পরিণতি হলো আমার? নিজেকেই জিজ্ঞেস করি। বিরক্ত হয়ে লাভ নেই। কারণ এই পরিণতি অনিবার্যই ছিল। আমি ছোট থেকে জানতাম এমনটা যে কোনও দিন হবে। দিন কয়েক আগে আমি এক ইজরায়েলি সেনাকে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে চড় মারি। গোটা পৃথিবী ঘটনাটা জেনে যায়। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে সেবারই প্রথম ভিডিয়ো তোলা
হয়েছিল। সেই কারণেই সকলের নজরে এসেছিল দৃশ্যটা। ঘৃণা যাদের ধর্ম, তারা এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অনেকেই চাইত আমায় যেন
হত্যা করা হয়। কিন্তু আমি যা করেছি তা একদম স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। নিজের জমিতে বুলবুলি ধান খেতে এলে যে কেউ তাড়াবে। ওরা আমার তুতো ভাইকে প্রায় মেরে ফেলেছিল। শিশুদের তাক করে গুলি চালাচ্ছিল।
চড় মারাটা তখন দরকার ছিল। তাই মেরেছি। আমার বয়স ষোলো। সদ্য উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াত শুরু করেছি। এখন ঘটনাটা না ঘটলেই বোধহয়
ভালো হতো। সব ঠিক থাকলে আজ আমার ইংরেজি পরীক্ষা থাকত। কতদিন স্কুল থেকে দূরে থাকতে হবে, কে জানে! আমি শেষ কয়েক মাস
অনেক লেখাপড়ার মধ্যে ছিলাম। এমনকি বাড়িতে থাকলে হয়তো এখনও পড়ার মধ্যেই থাকতাম। আর কয়েকদিনে আমার স্নাতক পর্ব মিটে যেত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""