কবি নীরব রাতে নিজেকে খুঁজে পায়। সারাটা দিন থাকে তার ব্যস্ততার মাঝে, রাতের নরম আঁধারে তার মানসীকে খুঁজতে থাকে। চৈতী রাতের চাঁদের মাঝে কবি তার প্রেয়সীকে দেখতে পায়, তাই চাঁদের সঙ্গেই কিছু কথোপকথন ও সঙ্গে খুনসুটি।
রাতের আকাশ কবির খুব পছন্দ। তার প্রেয়সীকে মনে পড়লে চাঁদনীতে ভাসতে ভাসতে তার কাছে পৌঁছে যায়। দু-চোখ ভরে দেখে তার ঘুমন্ত মুখখানা, সমস্ত জোছনা ভিড় করেছে তার মুখে, পানপাতা মুখ, কুঁচকানো চিবুকে কালোজিরের মতো ছোট্ট একটি তিল চিকচিক করে, দিগন্তরেখা চিলের ডানার মতো ক্র আর তার নীচে আধবোজা চোখে খেলে যায় কাজলা নদী, কবি সাঁতার কাটতে থাকে সেই নদীর জলে। ফেরার পথে কবি ভাবতে থাকে সে জোছনা চেয়েছিল না গোটা আকাশ।
কবি চাঁদের উপর অভিমান করে বলে, তুই তো পরের রূপে রূপসী, তা তোর এত কীসের রূপের অহঙ্কার, তুই তো সূর্যের দেবদাসী, যার কথা সারারাত ধরে ভাবিস, সে তো চেয়েও তোকে দেখে না, আমার জীবনে আর তো কোনো চাঁদ এল না, বরং তুই অন্তত এক রাতের জন্য আমার হয়ে না হয় থাক। কবি মনে করে চাঁদকে পেলেই কবি তার প্রেয়সীকে পেয়ে যাবে, নাই-বা থাকল প্রেয়সী তার কাছে। কবির কাছে প্রকৃতি ও নারী একই রূপে ধরা দেয়। তাই কবি বলে, কাজলা নদী না হয়ে নারী হলে নাম দিতাম কাজল, আর তার কাজলা চোখের নদীতে ডুব দিতাম বারবার।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""