উপনিবেশিক আমলে বাঙালি জনপরিসরের গঠন গড়ন বললেই অভিমুখ যে দিকে ঘুরে যায় তা হিন্দু ভদ্রলোকের একচেটিয়া। ব্রাহ্ম সামাজিকতা নিয়ে হাতেগুনতি কিছু আলোচনা আছে বটে, কিন্তু বাংলার যে বিপুল অংশের মুসলমান বাংলাভাষায় কথা বলতেন তাঁরা এখনও চৌকাঠের বাইরেই দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁরা কী ভাবে উনিশ-বিশ শতকে বাঙালী ও মুসলমান হিসেবে প্রদেশ ও অতিদেশের মধ্যে নিজেদের আত্মপরিচয় দাখিল করলেন, তৎসম বাংলাকেই নিজেদের কাজকর্মের, সাহিত্যের ও ইসলামের আধুনিকীকরণের জন্য বেছে নিলেন, কী সংজ্ঞা তৈরি করলেন জাতীয় আদর্শ ও জাতীয় উন্নতির এরই আলোচনা এই বইয়ের প্রবন্ধগুলিতে। এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, বাঙালী মুসলমানের জনপরিসর নির্মাণের প্রসঙ্গ মুলতুবি রেখে আধুনিকতার সংজ্ঞাকে প্রাদেশিক নানাত্বে ভেঙে দেওয়ার কাজটি (প্রভিনশিয়ালাইজেশন) সম্পূর্ণ হবে না। সেই নানাত্ব বোঝা যেতে পারে সংস্কারযানী ইসলামের সঙ্গে ভাষা ও সাহিত্যের কোন সম্পর্ক বাঙালি মুসলমান তৈরি করেছিলেন, তাঁদের জাতীয় সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্নগুলি কী ছিল, তার মধ্যে দিয়ে। এই বইটি বাঙালি মুসলমানের দোভাষী বা মুসলমানী বাংলাকে বর্জন করে তৎসম বাংলা ভাষা ব্যবহারের দিকে যাত্রাকে অনুসরণ করে, কোরআনের বাংলায় অনুবাদকে সাহিত্যের আধুনিকতার প্রসঙ্গ বলে চিহ্নিত করে, বাংলায় শরিয়তি সুফিবাদের অক্ষগুলি দেখায় আর কারবালা যুদ্ধে হুসেনের শাহাদাত বিষয়ক আখ্যান ও কাব্য থেকে বুঝতে চেষ্টা করে ইসলামের খিলাফতের কোন নতুন যুক্তি তৈরি হচ্ছে
বাঙালি মুসলমানের যৌথ পরিচয় নির্মিতিতে। এই প্রবন্ধগুলি বহুভাষিক অঞ্চলকে তার আঞ্চলিকতা ছাড়িয়ে বুঝে নেওয়ার জন্য একটা পাঠপদ্ধতি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও বটে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""