এই দুর্যোগপূর্ণ অতিমারিকালে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনকার বেঁচে থাকা এবং অন্তর্যামী জীবন থেকে আমার পাথেয় গ্রহণ। এ জীবনের হাজার বিফলতার মধ্যে ডুবতে ডুবতে ভেসে উঠেছি বরাবর। ওই আসে, ওই আসে করে অতিমারি আজ সভ্যতার গহীনে, মানুষের মনের গোপন কুঠুরিতে পর্যন্ত হানা দিয়েছে, পালাবার কোনও পথ না রেখে।
সাম্প্রতিক সমস্যা, রাজনীতি, সংঘর্ষ, সংঘাত, বঞ্চনা, হরিষ, বিষাদে জারিত হয়ে লেখার সাগরে ভাসতে ভাসতে কখন যে অতিমারি কোভিড ১৯-এর জালে জড়িয়ে পড়েছিলাম কে জানে? যতই ওই নাগপাশ ছিন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করি না কেন, ততই আরও অপ্রতিরোধ্য জালে আবদ্ধ হয়ে পড়া। তাই এই সময়ের একজন মানুষ হয়ে মুখের বলিরেখায় অশ্রু, হাসি, দুঃস্বপ্ন, জিজ্ঞাসা বা কাতরতা-কোনও কালো ছোপই লুকোতে পারিনি। আমি যে কোনও আলাদা ব্যক্তি নই, এই সময়-স্রোতেরই অংশবিশেষ-এই কথাটিই আমি এই ক্ষুদ্র ধারাভাষ্যে দেখাতে চেয়েছি।
এই 'অতি-মারি কথা' গত দেড় বছরের এ দেশে ঘটে যাওয়া জীবনের বিবিধ ঘটনার একটি দস্তাবেজ, নির্মম অথচ অবশ্যম্ভাবী, অনিশ্চিতের দোলায় দোদুল্যমান আবার আবেগে টই-টম্বুর। এ লেখা এক বহমান নদীর মতন যা সময়স্রোতে ভেসে যেতে যেতে অজস্র ছোট-বড় নুড়ির, বোল্ডারের আলিঙ্গনে নতুন নতুন রূপে ধরা দিচ্ছে নিতা
নতুন কত আশ্চর্য চলচ্ছবিতে, তাই হয়তো কিছু আরও ছবি রয়ে গেল অধরা। আমার লেখা নিয়ে আমি পৌঁছে যেতে চাই সেই দুর্লঙ্ঘ্য সাগরপারে, যার একদিকে জীবন হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার আর অপর পারে বাজছে জীবন ফিরে পাওয়ার বিজয় দুন্দুভি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""