পঞ্চাশ বা পাঁচ দশকের দামাল কবিদের পাশে পূর্ণেন্দু পত্রী সমভাবে উচ্চারিত নন। তাঁর কবিতার লিরিক, বিষাদ, ক্ষোভ এবং প্রেমের মাধুর্য পাঠককে আলোড়িত করে। উচ্চকিত তিনি নন, তবুও রক্তের ভিতরে তাঁর কবিতা মুখর। বিশেষত তাঁর 'আমরা আবহমান ধ্বংসে ও নির্মাণে', 'কথোপকথন', 'তুমি এলে সূর্যোদয় হয়' ইত্যাদি যৌবনে উত্তাপ ছড়াতো। তাঁর 'বড়ে গোলাম' বুকে বাজতো। তবু তাঁকে চেনা একটু দেরিতেই। সাল ১৯৮০। এম.এ. পাশ করে, স্বর্ণপদক পেয়েও বেকার। কোনক্রমে শিবপুর দীনবন্ধু কলেজে সান্ধ্যবিভাগে পার্ট টাইম অধ্যাপনা করি। মনে স্বপ্ন। যাকে ভালোবাসি তাকে নিয়ে ঘর বাঁধবো। তখন তা 'একটি রক্তিম মরীচিকা'। এইসময়ে পড়ি 'তুমি এলে সূর্যোদয় হয়' কাব্য। কবির নাম পূর্ণেন্দু পত্রী। পড়ি আর ভাবি, এই তো আমার কথা। প্রতীক্ষার কথা। স্পষ্টভাবে বলি-'যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।' অভিমান গাঢ় হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ বইটি কিনে উপহার দিই তাকে। আখ্যাপত্রে 'তুমি এলে সূর্যোদয় হয়' মুদ্রিত বাক্যের মাথায় লিখে দিই 'লীনা'। সেও খুশি হয়। সে পরে আমার ঘরণী হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""