ভারতবর্ষে সবচেয়ে বর্বর, নৃশংস, অমানবিক কুপ্রথার নাম ছিল 'সতীদাহ'। সুবিধাবাদী স্বার্থপর ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ও পুরোহিতেরা বানানো শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে সতীদাহকে মহত্তর পুণ্যকর্ম বলে প্রচার করতেন। পৌরাণিক শিবের স্ত্রী সতীর আত্মাহুতি বা মহাভারতে পাণ্ডুরাজার চিতায় পত্নী মাদ্রীর সহমৃতা হওয়াকে তাঁরা সেই গৌরবের আদর্শরূপে বোঝাতেন। সরল, নিরক্ষর কিশোরী ও যুবতীরা তা বিশ্বাস করে অক্ষয় স্বর্গলাভের জন্য জীবন্ত শরীরে চিতার আগুনের দাহ, জ্বালা, যন্ত্রণাকে সহ্য করতেন। যাঁরা চিৎকার করত, প্রতিবাদ করত তাদের বেঁধে, মেরে সবাই আগুনে ঠেলে দিয়ে ঢাক-ঢোল-কাঁসি বাজিয়ে, পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠতেন তাঁরা। নির্বোধ সধবারা সেই দগ্ধবতীর চিতাভষ্ম সংগ্রহ করতো বা নিভন্ত চিতায় প্রণাম করে নিজেদের শুদ্ধ, পুণ্যবতী ভাবতেন। উনিশ শতকে রামমোহন রায় প্রথম এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। শাস্ত্র আর আইনের অস্ত্রে ব্রাহ্মণদের ঘায়েল করেন। ইংরেজ সরকার বুঝতে পারে সতীদাহ প্রথা মোটেই গৌরবজনক ও শাস্ত্রসম্মত নয়, হিন্দু ধর্মের সঙ্গে এর যোগ নেই। কাজেই সেই প্রথা নিষিদ্ধ বা রদ হয়। আমরা এও জানি স্বামীহারা বিধবারা এসংসারে ভার ও অবাঞ্ছিত। তদুপরি আছে অসহায় এই যুবতী বিধবার দেহসড্রোগে লোলুপ পুরুষের দল। সমাজে নারীর অবস্থান শাঁখের করাতের মতো- আসতে যেতে কাটা পড়ে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""