যেসব বিকেলবেলায় আকাশ হয়ে ওঠে মহাজাগতিক ক্যানভাস, রঙের মায়াজাল বিছিয়ে দেয় মেঘ ভাঙা রোদ, সেইসব বিকেলগুলোয় নোনা ধরা দেওয়ালগুলো যেন খানিক সতেজ হয়ে ওঠে।
পাতাঝরা গাছে নতুন কুঁড়ি জন্মায়। রোদ মেখে নেয় রাস্তার কলে স্নান করা উলঙ্গ শিশু। আমার কাছে আকিরা কুরোসাওয়া এমনই এক বিকেল, যে বিকেল জীবনের বার্তা নিয়ে আসে। অথবা ছোটবেলার লোডশেডিং এর রাত। যখন গোটা পাড়া এক ছাদে এসে জড়ো হত। মোমবাতির হলদে আলোয় তৈরি হতো মায়াময় জীবন। পড়াশোনা ফিরে যেতো গ্যালারিতে। জ্যোৎস্না রাতে দুধের স্বরের মতো আলোর চাদর ছড়িয়ে যেত গোটা পাড়ায়।
যে মানুষের কাছে নির্মম সত্যের অনুসন্ধানের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি সদ্যজাত শিশুর জীবন, পৃথিবীর সমস্ত প্রাণবন্ত বিষয়ের সাথেই আমি তাঁর তুলনা টানতে পারি।
কিন্তু কুরোসাওয়া তাঁর বেড়ে ওঠার সময়ে দেখেছেন যুদ্ধের নৃশংসতা, ভূমিকম্প, নারী ধর্ষণ, আত্মহত্যার ব্যাধি এবং তাঁর প্রথম গুরু, সবচেয়ে কাছের দাদা হেইগোর মৃতদেহ। এ হেন বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রতিফলন হয়তো জীবন বিমুখতা। কিন্তু কুরোসাওয়া বেছে নিয়েছিলেন উল্টো রাস্তা। নির্মম জীবনের মাঝেও যা কিছু সুন্দর, তার অনুসন্ধান করে গেছেন তিনি সারাজীবন।
তবে কি হতাশা আসেনি? এসেছে বহুবার। আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছেন। জীবন ও মৃত্যুর দ্বন্দ্ব আজীবন বহন করেছেন নিজের মগজে। কিশোর কালে আকিরা একবার স্কুল যাওয়ার সময় ভিড় ট্রামের পাদানিতে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে করেছিল জীবনের আসলে কোনো মানে নেই। বেঁচে থাকাটা নেহাতই উদ্দেশ্যহীন। হাত দিয়ে ধরে থাকা ট্রামের হাতলটা সেই মুহূর্তে ছেড়ে দিয়েছিল আকিরা। সে যাত্রায় এক সহযাত্রী বাঁচিয়ে নেয় তাঁকে।
যে দেশ হিরোশিমা নাগাসাকির সাক্ষী থেকেছে সে দেশে নৈরাশ্যবাদ ব্যধির রূপ নিতে বাধ্য। কিন্তু কুরোসাওয়ার কাজে সেই আঁচ বিন্দুমাত্র আসেনি। তিনি তাঁর শিল্প জীবনে
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""