এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন, একটি গরু গাছে উঠেছে। হঠাৎই একদিন, মাঠের শান্ত, উদাস চোখের গরুটি দৌড়ে গিয়ে একটি গাছে চড়ে বসেছে। আর চারপাশে গ্রামের বাসিন্দারা হাঁ করে তাকিয়ে, অচল ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ একেবারেই চমকে গিয়েছে, কেউ আবার কৌতুক ভরা চোখে, সব কাজ ফেলে বিষয়টি দেখছে। একেই হয়তো বলে "গল্পের গরু গাছে ওঠা”।
এই প্রবাদটি আমরা সকলে শুনে এসেছি ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু কল্পনার এই 'গরু' যদি বাস্তবেই গাছে উঠে পড়ে, তাহলে সেটি অবিশ্বাস্য, হাস্যকর হয়ে ওঠে তো বটেই, কিন্তু সাথে সাথেই প্রস্ফুটিত করে শিল্পের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, ঠিক যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম স্বর্ণযুগের বাংলা কমেডি সিনেমায়ে।
সেই সময়ের সিনেমাগুলোতেও আমরা বারবার 'গরুকে গাছে উঠতে' দেখেছি, সরাসরি না হলেও, রূপকে তো বটেই। সেখানে যুক্তির বাধন তোয়াক্কা না করে, বিস্তার করেছিল হাসির সাম্রাজ্য। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমিক টাইমিং, চিন্ময়ের শাণিত বিদ্রুপ, রবি ঘোষের নিষ্পাপ অভিব্যক্তি, সবকিছু মিলেই তো তৈরি হয়েছিল সেই দুর্লভ সময়ের সিনেমা রাজত্ব, যেখানে বাস্তবতা আর অবাস্তবতার মাঝের রেখা ঢাকা পড়ে যেত দর্শকের হাসির কলতানে।
আবার ভাবুন, আয়না তো আদতে একটি কাঁচের টুকরো মাত্র, নয় কি? তবু আয়না বলতেই আমাদের মাথায় ভেসে ওঠে নিজেদের প্রতিবিম্ব। তেমনি, আমরা যেন কোথাও নিজেদেরকেই খুঁজে পাই এই স্বর্ণ যুগের কমেডি সিনেমার মাধ্যমে। একদিকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার সম্মুখীন কিছু ছেলের বন্ধুত্ব, মেয়েদের হোস্টেল বনাম ছেলেদের দুষ্টুমিতে গড়ে ওঠা মিষ্টি প্রেম কাহিনী, বিয়ের আড়ালে গ্রাম ও শহরের দ্বন্দ্ব, ইত্যাদি দৈনন্দিন জীবন ধারার গল্পকে তুলে ধরে এই চলচ্চিত্র। অন্যদিকে ভূতের রাজার মর্তে নেমে এসে বর দেওয়া, স্বর্গে পৌঁছে যাওয়া জীবন্ত মানুষের কাহিনী, দর্শকদের হাস্য বিনোদকে রঞ্জিত করে। একই ধারার চলচ্চিত্রের এই বহুমুখিতা তাকে কালজয়ী করে তুলেছে বললে বোধ হয় ভুল হবেনা।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""