প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের পর অবশেষে আত্মপ্রকাশ করল মঞ্জিল সেনের ভয় সমগ্র-র বহুপ্রতীক্ষিত তৃতীয় খণ্ডটি। প্রথম দুটি খণ্ড যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা লেখকের এ ধরনের রচনাগুলির সঙ্গে যারপরনাই পরিচিত। প্রথম দুটি খণ্ডের ভূমিকাতে যথেষ্ট বিশদেই তাঁর লিখনশৈলী, ভয়াল-ভৌতিক রচনা সৃষ্টিতে তাঁর পারদর্শিতা বা রচনায় ভয়ের আবহ ফুটিয়ে তোলার মুনশিয়ানা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কাজেই এই বইয়ের ভূমিকাতে খুব বেশি কিছু উল্লেখ করার হয়তো থাকে না; তবে কিছু কথা রয়েই যায়, যা না বললেই নয়। যাঁরা আগের দুটি খণ্ড পড়েননি বা যাঁরা মঞ্জিল সেনের লেখার সঙ্গে তেমন পরিচিত নন, তাঁদের জ্ঞাতার্থে শুধু এটুকুই বলব যে, বাংলা সাহিত্যে যে সমস্ত কথাসাহিত্যিকেরা ভৌতিক-অলৌকিক কাহিনি লিখে খ্যাতি লাভ করেছেন, তাঁদের নামের সূচি তৈরি করলে, মঞ্জিল সেনের নাম সে-সূচির বেশ উপরের দিকেই থাকবে।
মঞ্জিল সেন যে সমস্ত ভয়ের কাহিনি লিখেছেন, সেগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম, এমন কাহিনি যেখানে সরাসরি বা পরিষ্কারভাবে প্রেতের উপস্থিতি আছে; দ্বিতীয়, এমন কাহিনি যেখানে সরাসরিভাবে প্রেতের উপস্থিতি না থাকলেও অপার্থিব বা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে কিন্তু মূল রহস্যটি অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে এবং তৃতীয়, এমন কাহিনি যেখানে ভয়ের ব্যাপার আছে, ভূতপ্রেত বা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে কিন্তু শেষে দেখা গিয়েছে যে ব্যাপারটি আসলে ভৌতিক বা অলৌকিক কোনোটাই নয়; পুরো ব্যাপারটাই পার্থিব! তবে এই তিন ধরনের রচনাতেই একটি উপাদান সর্বদা উপস্থিত, যা হল ভয়! আমাদের এই গ্রন্থের নাম যেহেতু 'ভয় সমগ্র', সেহেতু এই তিন ধরনের কাহিনিকেই আমরা এতে স্থান দিয়েছি। প্রথম দুটি খণ্ড মিলিয়ে পাঠক-পাঠিকারা মোট ৫৯টি কাহিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই দুটি খণ্ড বের করার পর দেখা গিয়েছিল লেখকের আরও অনেক ভয়ের কাহিনিই বাকি রয়ে গিয়েছে, যা ওই দুটি খণ্ডে স্থান পায়নি। সময়ের সঙ্গে আরও কিছু হারিয়ে যাওয়া গল্পও আবিষ্কৃত হয়। ফলে তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অসাধারণ এই সিরিজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, যার ফলস্বরূপ এই তৃতীয় খণ্ডের আত্মপ্রকাশ।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""