'সিঁড়ি' উপন্যাসটি উদয়ন ঘোষের লেখালেখির ভুবনে এক ব্যতিক্রম। তাঁর গল্প উপন্যাসের প্রোটাগনিস্ট, সে শান্তনু, মুকুলেশ বা 'আমি এখন আন্ডারগ্রাউণ্ডে'-র কথক, যেই হোক, পাঠক দেখেন, সর্বত্র পড়ে আছে উদয়ন ঘোষের ছায়া। সচরাচর, তাঁর লেখার মধ্যে আত্মজৈবনিক উপাদান থেকেই যায়।
সিঁড়ির প্রধান চরিত্র ইউ জি সি তথা উদয়গোপাল চৌধুরী তেমন নয়। উদয়ন ঘোষের সঙ্গে তার মিল এই যে সে-ও একজন অধ্যাপক। এই মিলটুকু ছাড়া সে সর্বতোভাবে লেখকের বিপরীত মেরুর লোক। ইউ জি সি প্রাইভেট টিউশন করে ক্রমে ক্রমে অর্থবান হয়ে ওঠা একটি মানুষ। আর উদয়ন টিউশনবিরোধী মঞ্চের লোক।
আজীবন অর্থ উপার্জনের জন্য টিউশন করাকে তীব্রভাবে অপছন্দ করে গেছেন। সামান্য যে কয়েকজন ছাত্র পড়াশোনার জন্য তাঁর সাহায্য নিত, তাদের কাছ থেকে তিনি কোনও অর্থগ্রহণ করতেন না। পক্ষান্তরে সিঁড়ি উপন্যাসে ইউ জি সি টিউশনের
উদ্বৃত্ত ও ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া টাকায় বড়লোক হতে শুরু করে। প্রথমে ধীরে ধীরে ও পরে টিউশনের বাজার জমে গেলে মরা নদীর সোঁতায় বান আসার মত ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে টাকাকড়িতে। লাফিয়ে লাফিয়ে বছরে বছরে সে সাদাসিধে থেকে সচ্ছল থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকায় উজ্জ্বল বড়লোক হয়ে যায়। একটা শর্ট স্প্যানের মধ্যে সিঁড়ি বিনা, পাখিদের মত পাখা বিনা অতদূর চলে যাওয়ার অভিঘাত ইউ জি সি-কে পাল্টে দেয় ভিতর থেকে। না, 'সাচ ইজ লাইফ' জাতীয় কোন নিস্তার উদয়ন দেন না তাঁর পাঠকদের। তিনি বরং পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাজগতের পচনের শুরুর দিককার এই ইতিহাসের শবব্যবচ্ছেদ করে উন্মোচিত করেন এই দুর্গন্ধময়তার কারণসমূহ। অবধারিত ভাবেই আসে নকশাল আন্দোলন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রভাবের প্রসঙ্গও।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""