প্রায় তিন দশকেরও আগে লেখা উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল শারদীয় নন্দন পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হল এতদিন পর। সত্তর একাত্তরের যে উত্তাল সময়ের ফাঁসের ভিতর দিয়ে গলে বাইরে বেরিয়ে এসেছি আমরা তারই আত্মাকে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এ-উপন্যাসে, অবশ্যই প্রকৃতিবাদী পদ্ধতিতে নয়।
কল্পনার যে-মিথ্যার আশ্রয়ে রূপকথা হয়ে উঠতে পারে সত্যের চেয়ে অধিকতর সত্য সেই কল্পনাটুকুরই সাহায্য নেওয়া হয়েছে মাত্র। টোমাস মান তাঁর ত্রিস্তান উপন্যাসিকার নায়ক স্বঘোষিত কৌতুককর এক লেখকের একটা চিঠি সঠিক ভাষায় লেখার আপ্রাণ চেষ্টা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন যে দেখলে মনে হয় জাত লেখক তাঁরাই লেখাটা যাঁদের সহজে আসে না। কথাটা মজার শোনালেও এর মধ্যে এক গভীর সত্য নিহিত আছে। একজন রাজনৈতিক নেতা জনসভায় সত্য মিথ্যা মিশিয়ে অনর্গল বকে যেতে পারেন। তাঁর পক্ষে সাহিত্যিক হওয়া সম্ভব নয়। একজন সাহিত্যিককে লিখতে হয় প্রতিটি বাকা ও শব্দের ওজন মেপে কেন না তাঁর একমাত্র প্যাশন কল্পনার সাহায্য নিয়ে নিখাদ সত্যকে প্রকাশ করে যাওয়া। জনতার মনোহরণ করা তাঁর কাজ নয়। এই কঠিন চেষ্টাটুকুই করা হয়েছে এখানে। 'বড়গাঁর বুরুঞ্জি' উপন্যাসটির বিষয়ে এইটুকুই শুধু বলার।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""