ইদানিংকালে দেখতে পাই, বাংলা সাহিত্যের সিরিয়াস পাঠকদের একটি অংশ, তাঁদের পাঠাভ্যাসের কারণে পরিচিত বা অপরিচিত লেখকদের লেখা পড়ে, একটা প্রশ্ন প্রায়ই তোলেন। প্রশ্নটা হল, 'এরা লেখে কেন?' আলোচনা চলাকালীন বহু কথার ফাঁকে, এমন ধরণের প্রশ্ন'র কাঠামো ধরে আলগোছে ঝুলে থাকা শব্দগুলোর ভেতরে পাঠকের নেতিবাচক ভাবনার হদিশ যেমন পাওয়া যায়, তেমন কোনো, কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো লেখককে কেন্দ্র করে তাঁদের এই জিজ্ঞাসা ইতিবাচক অর্থে, এক ধরনের বিস্ময়বোধের ওপর ভর করে তাঁদের নিজেদের দিকেই, এবং তাঁদের মতন পাঠকদের দিকেই স্বগতোক্তির মতন ধেয়ে যায়। সুতরাং 'এতদিন এঁর লেখা পড়িনি কেন?' 'এর আগে এরকম একজন গদ্যকার আমাদের মধ্যে আছেন, সেটা জানতে পারিনি কেন?' ইত্যাদি প্রশ্নগুলো অনুক্রমিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে কোনো একসময় যখন হা-হুতাশ এবং মুগ্ধতার আবেশে 'এরা লেখে কেন!' অথবা এই ভাবনার বিস্তার করলে যা-দাঁড়ায় অর্থাৎ বছরের পর বছর এত অবজ্ঞা, এত অবহেলার, এত কিছুর পরেও, এঁরা কিসের ভিত্তিতে লিখে গেছেন বা লিখে চলেছেন, এই কথা ক'টির কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছয়, তখন এক নতুন কৌতূহলের জন্ম হয়। আর এই প্রশ্নের উত্তর থেকে যায় বা রয়ে যায় লেখকের লেখার ভেতরে, বলা কথায়, দেওয়া সাক্ষাৎকারে।
যেমন কয়েক বছর আগে লেখক রবি সেনের, আজ অব্দি নেওয়া একমাত্র সাক্ষাৎকারের মধ্যে করা একটা সাদামাটা প্রশ্ন ছিল, 'আপনার প্রথম কবে উপলব্ধি হল যে আপনি লেখক হতে চান?' প্রত্যুত্তরে তিনি যখন বলেন, 'আমাদের ছোট শহরে গণমিছিলের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম। তখন কিবা আমার বয়স। সেদিন বাড়ি ফিরে এসে অনেক রাতে ভেতরের বারান্দায় লণ্ঠনের আলোয় একটা গদ্য লিখি- যেন অটোমেটিক রাইটিং। সেদিন বুঝিনি, পরে বুঝেছিলাম আমি একটা আপোক্রিফা- নিষিদ্ধ ইস্তাহারই লিখেছিলাম। এই আমার লেখালেখির সূচনা। যদিও দিশা-অভিমুখ তখনও স্থির হয়নি'। তখন তাঁর লিখবার হেতু কী, সেইদিকে করা ইশারাটুকু তাঁর একনিষ্ঠ পাঠকের নজর এড়িয়ে যায় না।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""