আটের দশক শুরু হতে তখনও দেরি আছে, জ্বলন্ত-ট্রাম চলন্ত-মিছিল কলেজ স্ট্রিটের উপর নিশ্বাস-ফেলছে হিন্দুস্কুলের সিঁড়ি। সেখানে তীব্র ফিসফিসে কিশোর গলায় শোনা যেত-'এই এই, দান্তে' না, কোনও সাহিত্যের প্রসঙ্গ নয়, একটা বাংলা সমাস। দাঁত অন্তে যাহার: দান্তে। কোনও বদমাস কিশোরের উদ্ভাবন, ইস্কুলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে চলে এসেছিল। মানে, সামনে ঝুঁকে যাওয়া খিটকেল মুখের লম্বা রোগা রগবহুল শিশির হাজরা। আমাদের ইংরিজির মাস্টারমশাই।
আমি একবার শেলি বিষয়ে একটি লেখা, ভারি রোমহর্ষক শব্দে এবং জটিল বাক্যে মুখর, তাঁকে পড়তে দেওয়ায়, তিনি খাতাটা খিমচে আমার মুখে ছুঁড়ে মেরেছিলেন।
বলেছিলেন, 'তুমি যাও গা, তোমার দ্বারা সেনটেন্স লেখা হবে না'। আমাকে টাস্ক দিয়েছিলেন, ওই গোটা লেখাটাই নতুন করে লেখো, যাতে একটাও শক্ত শব্দ থাকবে না, একটা বাক্যেও একাধিক ক্লজ থাকবে না।
দান্তের ওই দাঁত-খেঁচানো মুখ একটা অবতারের মত লাগে এখন। আমাকে দেশের বাড়িতে নিয়ে গেছিলেন অনেকবার, বীরভূমের বাহিরি গ্রামে। ধুলোধূসর বাদশাহি সড়ক, বাহিরি, যজ্ঞশুন্ডি-তে স্যারের শ্বশুরবাড়ি, হলদে সর্ষেফুলে ভরা খেত, স্যারের গোয়ালের মোষের পিঠে চিত হয়ে শুয়ে থাকা, ধানের আড়ত, উগ্রক্ষত্রিয় পরিবারের কালীপুজোর বলি, সেই আমার মাথায় গ্রাম দেশ ভারত, যা রয়ে গেছে। শুধু দেশ কেন, নেবুতলা পার্কের পাশের মেস থেকে আরও কত জায়গায় নিয়ে গেছেন। এবং নিয়ম মেনে দাঁত খিঁচিয়েছেন। মারা যাওয়ার আগে দেখাটুকুও করা হয়নি, ভেবেছিলাম ভীমনাগের সন্দেশ নিয়ে যাব, হয়নি। আজ চার দশকের বেশি পেরিয়ে গেছে, সেই খেঁচানো অবতারকে আর দেখা হয়নি। আমিও মাস্টারি করছি, তার চেয়েও বড় কথা, সেনটেন্স লিখছি। যদি ভগবান বা ভূত মানতাম, জিগেশ করতাম, পারছি কি স্যার?
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""