'মহাতীর্থের শেষ যাত্রী' বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে এখন বারবার আমার কলম থেমে খাচ্ছে, ভিখারী জীবনের সেই দিনগুলি এখন ভাবতেও আশ্চর্য লাগছে। সেই সময়কার ডায়েরিটাকে ঠিক ডায়েরি বললে ভুল হবে। শুরু করেছিলাম কয়েকটা ভাঁজ করা খসখসে সাদা কাগজে, তারপর কোন কোন সময় খাতা পেয়েছিলাম বটে, কিন্তু অধিকাংশ সময়েই এদিক ওদিক থেকে চেয়ে পাওয়া টুকরো কাগজের উপর স্লংক্ষেপে টীকা লেখা মাত্র।
সেইগুলো জড়ো করে গুছিয়ে লিখতে গিয়ে নিজেই আপন মনে হেসে উঠেছিলাম। সেটাই ছিল আমার প্রধান সমস্যা। তা সত্ত্বেও আজ তাকে সাজিয়ে তুলতে পেরেছি। যাঁদের আশীর্বাদে আমার এ প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, এই কৃতিত্ব তাঁদেরই প্রাপ্য।
১৯৫৬ সাল। বিদেশীদের জন্য তিব্বতের দরজা তখন প্রায় বন্ধ; ভারতীয়দের জন্য তো বটেই। নেপাল সরকার কোনরকমে সেই বছর তীর্থ-যাত্রীদের জন্য কাঠমান্ডুর চীনা দূতাবাস থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন। পরে শুনেছি যে, সেটাই ছিল মহাতীর্থের শেষ তীর্থযাত্রীর দল। ১৯৫১ সালের ২৩শে মে, চীনের 'সেন্ট্রাল পিপল্স গভর্ণমেন্টে'র এক চুক্তি অনুসারে পিকিং সরকারের 'পীসফুল লিবারেশন আর্মি' আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে তিব্বতের বিভিন্ন অংশে। সে ঘটনা আজ কারুরই অজানা নেই। রাজনৈতিক সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হবার পরও তীর্থযাত্রীদের জন্য কিছু কিছু পথঘাট খোলা ছিল। আমার তিব্বতযাত্রা সে কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""