'মহাতীর্থের শেষ যাত্রী' বইটা আসলে ঘর-পালানো একটি ছেলের তিব্বত-ভ্রমণ কাহিনী। খোলো বছরের একটি ছেলে 'মৌনী বাবা', গ্যাংটক থেকে লাসা, ব্রহ্মহ্মপুত্র, কৈলাসনাথ ও মানস সরোবর সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে ফিরে এসেছিল লিপু লেক নৈনিতাল হয়ে। সে যাত্রায় না ছিল প্রস্তুতি না ছিল জ্ঞান। চলার পথে শোনা কথাগুলোকেই ধরে রাখার কাহিনী। ১৯৫৬ সালের সেই তিব্বত যাত্রায় যিনি ছিলেন শুরু, তিনি অনেক বছর পর ধরা দিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনের বিনয় ভবনে সাধুবাবা নামে। সে যাত্রায়ই আর এক যোগী পুরুষ, ব্রহ্মপুত্রের ধারে হারিয়ে যাওয়া সেই মৌনী বাবা নামক ছেলেটিকে বাঁচিয়েছিলেন। তারপর, ভবিষ্যতের পথে তাকে বারবার দেখা দিয়ে উৎসাহিত করেছিলেন। হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন পথের পতাকা।
মৌনী বালকের মনে, সেই দিগম্বর রহস্যে ঘেরা যোগী পুরুষটি কৈলাসবাবা নামে স্থায়ীভাবে আসন পেতে বসলেন। তিনি হলেন মন-দেবতা। ক্ষণিকের সঙ্গ আর মন্ত্র প্রেরণায় সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলেটিই ভবিষ্যতে বেরিয়ে পড়ল জগৎপথে। পরিব্রাজক হয়ে ঘুরে বেড়াল দেশে-দেশে। কৈলাসবাবা পরিব্রাজকের মনে বারবার আসা-যাওয়া করতে লাগলেন। বলতে গেলে সেই কৈশোরের কৈলাসবাবা পরিব্রাজকের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে লাগলেন, দেশ-মহাদেশ থেকে শুরু করে এভারেস্টের পাদপীঠ, উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত সর্বত্রই তিনি ঘুরলেন পরিব্রাজকের মন-যানে চড়ে।
দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর পর পরিব্রাজকের মনে হল সেই পূণ্যতীর্থের কথা, যেখানে সেই তান্ত্রিক যোগীপুরুষ প্রথম দেখা দিয়েছিলেন, আর পরে কৈলাসখণ্ডে মানস সরোবরের ধারে তাকে মন্ত্র-দীক্ষা দিয়ে আরও কাছে টেনে নিয়েছিলেন। সেই পথ, সেই নদী, সেই গুহা দেখার এক প্রচণ্ড বাসনা জেগে উঠল। স্থান-মাহাত্ম্য, স্মৃতির টান আর সবচেয়ে বেশি করে মনকে উত্তেজিত করে তুলল আর একবার তাঁকে দেখার ইচ্ছা। পরিব্রাজক জীবনের এই শেষ অধ্যায়ে চাই তাঁর দর্শন।
আমার ইচ্ছাশক্তি আমাকে দিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। স্থান, কাল
ও ক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে ইচ্ছাশক্তি যখন মনকে চালনা করে তখন জ্ঞানশক্তি
ও ক্রিয়াশক্তি আপনা থেকেই পাশে এসে দাঁড়ায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""