ভারতের মতো দেশে যেখানে একটি বিস্তৃত লিখিত সংবিধান রয়েছে, সক্রিয়। আদালত রয়েছেন, মানবাধিকার কমিশন এবং মহিলা কমিশন সহ অন্যান্য সংবিধান স্বীকৃত সংস্থা রয়েছেন, সর্বোপরি নিয়মিতভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, সেখানে মেয়েদের আইন বলে কোনো আলাদা আইন থাকতে পারে না এবং বাস্তবে নেই। আসলে আইনের চোখে সকলে সমান এবং সাম্য ও স্বাধীনতার ধারণা সংবিধানে প্রথমাবধি স্বীকৃত। তবু কেন এই পুস্তকের অবতারণা?
মেয়েরা ভারতীয় সমাজে বিশেষ সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত বলে প্রায়ই উচ্চকিত ঘোষণা করা হয়। এমন উদাহরণ অজস্র দেখানো যায় যেখানে মেয়েরা ভারতে প্রধানম। ও রাজ্যপালের আসন অলংকৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন লড়েছেন, রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, সর্বোচ্চ আদালতে বিচারকের ভূমিকায় আসীন হয়েছেন, সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সুপ্রিমো হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন? তথাপি আলাদা করে মেয়েদের আইন শীর্ষনামে একটি পুস্তক লেখার প্রয়োজন হল।
এ বই আসলে সেই মেয়েদের জন্য যাঁরা মূলত অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল, লেখাপড়া এবং আর পাঁচটা বিকাশের সুযোগ না পাওয়ার কারণে নানাভাবে পিছিয়ে এবং সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিক গড়নের জন্য নানাভাবে অবহেলিত। সেইসব মেয়েরা যাঁরা গতরে খেটেও স্বামী বা তার পরিবারের কাছে প্রাপ্য সম্মান পান না। সেই সর মেয়েরা, যাঁরা প্রায়ই সম্পত্তির নামমাত্র মালিক হয়ে থাকেন, বাস্তবে তা ভোগ করে কোনো পুরুষ। সেই মেয়েরা যাঁরা পৈতৃক পরিবারের কাছে দায় হিসাবে গণ্য, যাঁদের বিবাহ সম্পর্কে পৌঁছে দিতে আত্মীয়দের বহু অর্থব্যয় হয়, আবার অন্যপক্ষের চাহিদামতো অর্থ বা অলংকার বা আসবাব যোগাতে না পারার কারণে যে মেয়েরা স্বামী বা শ্বশুর ভাশুরের হাতে নিয়মিত মারধোর খান, টিটকারী-টিপ্পনী মুখ বুজে শোনেন স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেও। সেইসব মেয়েরা যাঁরা সন্তানের জন্ম দিতে পারেন নি বলে গাল মন্দ খান, অথচ সন্তান না হওয়ার জন্য অক্ষমতাটি যথার্থ কার, সে ব্যাপারে সমাজ দৃষ্টিকটুভাবে উদাসীন থাকেন। সেইসব মেয়েরা যাঁরা যোগ্যতার পরিচয় রাখলেও বা পরিশ্রমী হওয়া সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার এবং কখনো তা অত্যাচারের পর্যায়েও চলে যায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""