রাঢ়বঙ্গের প্রাচীন ঐতিহ্যের গৌরবময় ইতিহাস সচেতন ভাবে অবহেলার চোখে দেখা হলেও উপেক্ষা করা সম্ভব হয় নি। প্রাচীন ও মধ্য যুগের সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্মীয় ভাবাবেগের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর আলোক শিখা আজও দেদীপ্যমান। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন থেকে শুরু করে মঙ্গলকাব্য, শাক্ত সাহিত্য, বৈষ্ণব সাহিত্য সব ক্ষেত্রেই রাঢ়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ইতিহাসের পাতায় ষষ্ঠ শতকে সুদ্ধ নামের পরিবর্তে রাঢ় নামটি ব্যবহৃত হয়। রাঢ় শব্দটিকে নানা অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। 'মেদিনীকোষ'এ রাঢ় শব্দের অর্থ শোভাময়ী অর্থাৎ কৃষি সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াও এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্য সবকিছুই শোভাময়। এতদ্ অঞ্চলের মানুষের জীবন চর্যায় বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় ভাবাবেগ ছুঁয়ে গেছে বার বার। অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী এই সময়ে রাঢ় অঞ্চলে জৈন ধর্মের বিরাট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
বেশিরভাগ জৈন কেন্দ্রগুলি গড়ে উঠেছিল কংসাবতী নদী ও দ্বারকেশ্বর নদের তীরে। ধীরে ধীরে জৈন দিগম্বরের ধর্মীয় ভাবাবেগ ম্লান হতে হতে একসময় জৈন কেন্দ্রগুলি কোথাও বিষ্ণু আরাধনার, কোথাও শৈব ক্ষেত্রে পরিণত হয়। জৈন ধর্ম প্রচারের আগে খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতক থেকে এই অঞ্চলে বিষ্ণু উপাসনার একটি ক্ষীণ স্রোতধারা প্রবাহিত হয়। রাঢ় অঞ্চলের মাটি শ্রীচৈতন্যের পদধূলিধন্য পূতপবিত্র মাটি। এই মাটির উপর দিয়েই পায়ে হেঁটে পুরীধাম যাত্রা করেছিলেন মহাপ্রভু স্বয়ং। বৈষ্ণব ধর্মের ক্ষীণ ধারা চৈতন্যের পদস্পর্শে পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। মহাপ্রভুর প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য জনচিত্তকে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট করে। বৈষ্ণব গুরু শ্রীনিবাস আচার্য সেই আবেগকে সাধারণ গৃহস্থের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। রাঢ়ের রাজা বিজয় সেন, মল্লরাজ বীর হাম্বীর সকলেই বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ধর্মীয় আবেগের আন্তরিকতায় স্বয়ং বিষ্ণু কোথাও কালাচাঁদ, শ্যামরায় কোথাও বা মদনমোহন নামে পূজিত হতে থাকেন। বিষ্ণুপুরের রাজবাড়ীর মদনমোহন স্বয়ং কামান ধারণ করে বহিঃশত্রু প্রতিহত করেছিলেন। এই বিস্ময়কর কাহিনী সর্বজনবিদিত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""