বলা হত নবদ্বীপের চার শিরোমণি। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তন বিশ্বস্তর চৈতন্য, নব্যন্যায়ের প্রবক্তা রঘুনাথ, নবাস্মৃতির প্রবক্তা রঘুনন্দন এবং তন্ত্রসার রচয়িতা কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। এই কাহিনি কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে কেন্দ্র করেই। কাহিনির সময়কাল পঞ্চদশ খৃস্টাব্দের মধ্যভাগ। বিশ্বস্তর চৈতন্য তখন অপ্রকট হয়েছেন।
নবদ্বীপে জাঁকিয়ে বসেছে একদল ব্রাহ্মণ কাপালিক। নবদ্বীপের সামাজিক ক্ষমতা দখলের লিপ্সায় তন্ত্রশাস্ত্রের ভুল এবং বিকৃত ব্যাখ্যা করে তারা নবদ্বীপবাসীকে বিভ্রান্ত করছে। নবদ্বীপবাসী সেই বিকৃত ব্যাখ্যাকেই প্রকৃত ধর্ম বলে বিশ্বাস করছেন। এই ক্ষমতালিপু ব্রাহ্মণ কাপালিকরা নানারকম ব্যভিচারেও লিপ্ত হচ্ছে। ঠিক এই সময়েই কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ উপলব্ধি করছেন তন্ত্রশাস্ত্রের প্রকৃত ব্যাখ্যা নবদ্বীপবাসীর সামনে উপস্থিত করা দরকার। তিনি বৃহৎ তন্ত্রসার রচনায় মনোনিবেশ করছেন। পাশাপাশি নিরন্তর খুঁজে চলেছেন সেই শক্তিরূপিনীর প্রকৃত রূপটি, যে রূপটি বাংলার ঘরে ঘরে দক্ষিণা কালিকা হিসাবে পূজিতা হবেন। শেষ পর্যন্ত এক অন্ত্যজ শ্রেণির নারীর ভিতর খুঁজে পাচ্ছেন সেই কাঙ্ক্ষিত রূপটি। এক অর্থে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে এ ছিল কৃষ্ণানন্দের নীরব প্রতিবাদ। এ কাহিনিতে আছেন কৃষ্ণানন্দের ভ্রাতা বৈষ্ণবাচার্য মাধবানন্দ। আছেন কৃষ্ণানন্দের সাধন সহযোগী আগমবাগীশ জটিয়া যাদু। প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও পরোক্ষে এ কাহিনিতে আরও একজন রয়েছেন, যাকে ছাড়া নবদ্বীপ অসম্পূর্ণ- বিশ্বম্ভর চৈতন্য। এই কাহিনিটি এক উত্তরণের কাহিনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""