ছোটবেলায় প্রথম ভূগোল ক্লাসে শুনেছিলাম যে, এই পৃথিবীটা গোল, পৃথিবীটা ঘুরছে, ঘুরতে ঘুরতে সূর্য্যের চারদিকে ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে কখনো সূর্যের মাথার ওপর উঠছে আবার ঘুরতে ঘুরতে সূর্য্যের নীচের দিকে নেমে আসছে। সোজা কথা সূর্য একজায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, পৃথিবীটা তার চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরছে।
পৃথিবীটা একটু হেলে আছে তাই চারপাশে ঘুরলেও সূর্যের উত্তাপ সবজায়গায় সমানভাবে পড়ছে না, সেই কারণে বছরের এক সময় পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্দ্ধে সূর্যের তাপ বেশি পড়ছে, আর উত্তর গোলার্দ্ধে সেই সময় সূর্যের তাপ কম পড়ছে। আবার একই বছরে ঠিক উল্টো অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্দ্ধে সূর্যের তাপ কম পড়ছে আর উত্তর গোলার্জে তখন সূর্যের তাপ বেশি পড়ছে। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তনের ফলে হচ্ছে দিন-রাত আর ঋতু পরিবর্তন, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত।
মাস্টার মশাইয়ের কাছে ব্যাপারটা অতি সোজা অঙ্কের মত সহজ। এর মধ্যে কোন জটিলতা নেই, আর আমার কাছে ঠিক উল্টো। বার বার গঙ্গার ঘাটে সূর্যাস্ত দেখার সময় মাস্টার মশায়ের কথাটাকে আমি কিছুতেই মানতে পারিনি। চোখের সামনে দেখছি সূর্যাস্ত-সূর্য্য উঠছে আর নামছে অথচ ভূগোলে পড়ছি সূর্য দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবী চলছে। মনের সন্দেহ ও দ্বিধাকে দূর করবার জন্য মাস্টার মশাইকে আর বিরক্ত করিনি। অবশ্য ভয়ও ছিল কারণ প্রায়ই আমার বোকামী প্রশ্নের জন্য ক্লাসের ছেলেদের কাছে আমি বেকুব হয়েছি।
বেশ কিছুদিন পর ট্রেনে করে যাচ্ছি। একটা স্টেশনে ট্রেন থেমে আবার চলতে শুরু করল। আমি বসেছিলাম জানলার ধারে। আশ্চর্য হয়ে দেখি যে স্টেশনটা যেন হঠাৎ চলতে শুরু করেছে। আমি তাড়াতাড়ি জানলার দিকে ঝুঁকে পড়লাম। চোখের সামনেই দেখছি স্টেশন শুদ্ধ সব মানুষগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে, অদ্ভুৎ বটে। তারপর যখন স্টেশনটা শেষ হয়ে গেল তখন ট্রেনের শব্দে ও ঝাকানিতে বুঝলাম যে স্টেশন নয় আমাদের ট্রেনটাই এগোচ্ছে। ট্রেনটা এত স্মথ স্টার্ট নিয়েছে যাতে মনেই হয়নি যে ট্রেনটা চলছে। সেইদিনই সূর্যাস্তের ব্যপারটা পরিষ্কার বুঝলাম। ধরে নিলাম আমাদের পৃথিবীটা বিনা শব্দে খুব স্মথ স্টার্ট নিয়েছে এবং চলছে তাই মনে হচ্ছে সূর্যটাই যেন যাচ্ছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""