রবিন হুডের কাহিনি শুধু একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি নয়, বলা যেতে পারে মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। একটি চরিত্রের নাম দেশ-কালের সীমা পেরিয়ে বান্ধারায় পরিণত হয়েছে- সারা পৃথিবীতে এমন উদাহরণ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এই একুশ শতকের দুনিয়াতেও রবিন হুডের গল্প শোনেননি বা পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। ধনী ও ক্ষমতাবানদের হাত থেকে ছিনিয়ে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার এই আপাত-সরলরৈখিক ভাষ্য মধ্যযুগীয় গীতিকাব্যগুলির দিন পেরিয়ে আধুনিক উপন্যাস বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও বারবার ফিরে এসেছে। আর প্রায় প্রতিবারই রবিন হুড হয়ে উঠেছে সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক একজন নায়ক। সে ন্যায়ের প্রতীক, দুর্বলের সহায়, অত্যাচারীর ত্রাস। যদিও দরিদ্রমাত্রই সৎ আর ধনীমাত্রই অত্যাচারী- এ-ও অতি অদ্ভুত সরলীকরণ।
সম্ভবত জোসেফ রিৎসন-ই (১৭৫২-১৮০৩) সর্বপ্রথম রবিন হুডের গীতিকাব্যসংকলন
প্রকাশ করেছিলেন। সেখানেই হোক বা হাওয়ার্ড পাইল-এর 'The Merry Adventures of Robin Hood (1883) নামক উপন্যাস, রবিন সেখানে হাসিখুশি, প্রায়-নিখুঁত একজন সমাজবহির্ভূত নায়ক। কাহিনিতে বন্ধুত্ব আর রোমাঞ্চই মুখ্য, কিন্তু রাজনৈতিক অথবা মনস্তাত্বিক জটিলতা একপ্রকার অনুপস্থিতই। সহযোগী চরিত্রগুলিও হয় ভালো, নয় খারাপ-কারও মধ্যে কোনও ধূসরতার আভাস নেই। লিটল জন বা ফ্রাইয়ার টাক অন্ধের মতো রবিনের নির্দেশ পালন করে; নটিংহ্যামের শেরিফ সারাক্ষণ শুধু চক্রান্ত রচে যায়। এদিকে নারীচরিত্রগুলিকে সুন্দরী হওয়া, কাঁদা আর সেবাদান ছাড়া প্রায় কিছুই করতে দেখা যায় না! সমসাময়িক সমাজের শোষণ ও বৈষম্যের চিত্র উপস্থাপিত হলেও বিশ্লেষণ খুব একটা চোখে পড়ে না। চলচ্চিত্রগুলিতে আবার রবিনের বীরত্ব আর প্রেমই হয়েছে মুখ্য।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""