সদ্যপ্রয়াত পিতৃপ্রতিম অগ্রজ, "শ্রীপারাবত" ছদ্মনামের আড়ালে চির-নেপথ্যচারী, প্রবীর কুমার গোস্বামীর (১.১.১৯২৭-২.১১ ২০১০) বইয়ের ভূমিকা যে বাথিত হৃদয়ে আমাকেই লিখতে হবে, সেটা কল্পনাতীত ছিল। নিয়মবন্ধ অবকাশবহুল পেশা তাঁর ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই প্রায় ছুটন্ত জীবিকা এবং সাংসারিক দায়িত্বতারে বন্দি জীবনের ফাঁকে ফাঁকেই চলেছিল তাঁর লেখনীচালনা।
জীবনে নেশা বলতে ছিল দুটোই-চা এবং লেখা। পিতৃকুল ও মাতৃকুলে সাহিত্যের আবহাওয়া ছিলই এবং সেটাই হয়তো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত আকৈশোর। ছোটগল্প কতগুলি লিখেছেন, সেটা গুনতে বোধহয় এক হাতের আঙুল কটিই যথেষ্ট। লিখেছেন পৌনে শতাধিক উপন্যাস, যার সিংহভাগই ঐতিহাসিক উপন্যাস।
সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস সৃষ্টি একদিক থেকে ক্ষুরস্য ধারার মতোই শাণিত পথে চলা। তথ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসা যাবে না, অথচ নীরস ইতিহাসের "পাঠপুস্তক" হলেও চলবে না। এ যেন কল্পনার আকাশে একটা রঙিন ঘুড়ি, যেটা তথ্যের সুতো দিয়ে লেখকের কঠোর হাতের নিয়ন্ত্রণে বাঁধা থাকবে। একমাত্র যেখানে ইতিহাস নীরব, সেখানেই লেখক যুক্তি ও অনুমান প্রয়োগ করে লাটাইটাকে কিছুটা শিথিল করতে পারেন। সব চাইতে বড় কথা, ঐতিহাসিক তথ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে ইতিহাসে উল্লেখিত মুখ্য চরিত্র তো বটেই, অনুল্লেখিত তৎকালীন সাধারণ নরনারীর সৃষ্ট চরিত্র গুলোকেও বিশ্বাসরূপে আর পাঁচটি উপন্যাসের চরিত্রের মতোই তরঙ্গিত দুঃখসুখে ভরা জীবন্ত এবং সবরকম পাঠকের কাছে উপভোগা করে তুলতে হবে। বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শরদিন্দু এই পরীক্ষার কঠিন কষ্টিপাথরে খাঁটি সোনার মতো উত্তীর্ণ। শ্রীপারাবতও পেরেছেন। তাঁর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস (এই খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত) 'আমি সিরাজের বেগম' কেবলমাত্র পাঠকমহলেই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভকরেনি। সেই দরিদ্র, কিন্তু অসংখ্য প্রতিভায় দীপ্ত সাদাকালো বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে, সেইসব স্মরণীয় অভিনেতা-অভিনেত্রী, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীর অবদানের বৈভবে সমৃদ্ধ সুশীল মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত চিত্ররূপের জনপ্রিয়তা আজও টেলিভিশনের দর্শকদের টেনে রাখে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""