সেই করোনার দয়াবহ দিনপ্রলিতে আমির গ্রেগ্রাম করেছি, বসে, তা এই আবি এবং পরবর্তীকালে 'অনুপ্রাণিত' কলেরার দিনগুলি'র মতো নয় সেই প্রেম আর আমার গ্রেনে তফাত আরছে। আমার প্রেম কবরের কাগজের সঙ্গে। সাহিত্য প্রবর বসে কোমর হট এর সঙ্গে নয়। অত্যন্ত বিরক্তিকর সস্থিকর একটা মায়া নাকে-মুখে আটকে, হেঁটে ঠোঁট এপাড়া ওপাড়া ঘুরে যাব, প্রতিদিন ৮/১০টা করে খবরের কাগজ কিনে বাড়ি ফিরেছি, পূজার চেহারাটা বুঝব বলে। রারই জখন এই সংকলন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একটা পুরানো দুর্গা বালান ও নাট মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে, এক কর্মচারী দুটো হ্যাজাক মুখে সিঁড়িতে বসে। মুছতে মুছতে সে জানতে চাইল, সাদাবাবু! এবার পুজো হবে না? সৌমিত্র বললেন, 'কে করবে? কে আছে? মুহূর্তে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। এক কিশোর জানান দিল সেখবর, 'এবার দাদুর পুজো হচ্ছে না।' হৈ হৈ কাণ্ড ঘটে গেল। কিশোর ছেলের নখ যৌমিত্র'র কাছে এষে আবদার করল, আপনার পুঝেটা এবার আমরা করি? সৌমিত্র তো অবাক। বললেন, 'তোময়া করষে? কথো।' কী হল আত্মপর? খামস্ আপ-এর ছিপি আয় বোতলে পুরানো দুর্গা বালান ঢেকে গেল। গান হল, 'এবার জমবে মজা। ভূমিকা লিখতে বসাব খানিক আগে ফেসবুক-এ দেখলাম। পুরনো বিজ্ঞাপন।
দুর্গাপূজার ব্যাপার-ই আলাদা। সেই যে মনমোহন সিং-এর আমলে। ভারত ডব্লিউটিও চুক্তিতে স্বাক্ষর করল, তারপর অনেক কিছুর। সঙ্গে দেশে ফ্রেজ, ডিনাইলও ঢুকল। কাপড়ের উপর বং দিয়ে লেখা ব্যানারের দিন শেষ হয়ে গেল। বড়ো বড়ো গেট, অসংখ্য বড়ো বড়ো ব্যানার তৈরি হতে লাগল ওই ফ্রেন্স আর ভিনাইল দিয়ে। পূজার প্যান্ডেল ঢেকে গেল হাজার হাজার বিজ্ঞাপনী চমকে। ক্ষমতা অনুযায়ী যে যত গেট আর ব্যানার পেল, সেই কমিটি তত ফুলে ফেঁপে উঠল। এভাবেই একদা বামপন্থী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টি 'শুদ্ধ শুচি সুস্থ কচি' স্লোগান দিতে দিতে এক বা কোম্পানিও বাঙালির দুর্গাপূজার ভোল পাল্টে। দিল। বাঙালির দুর্গাপূজায় ঐতিহ্য অবশেষে সুস্থ, শুদ্ধ শুচিতা। এবং কচি পেল সেই বা কোম্পানির দৌলতে। জয়গুক।
কলকাতায় দুর্ণীপূজার আয়োজনে থিম হয়ে গেল আবশ্যিক ব্যাপার। উঠে এলেন একদল শক্তিশালী দিন আটিন্ট। শুরু হল গবেষক দিনের পৃষ্ঠার হাত ধরে পুরমার লাও হল। দৃষ্টপূজার বাচ্ছায় জমে গেল। ভিরটি একটা পূজা অর্থনীতি তৈষি হল। হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবাবার আয়গা হল বিমের পৃষ্ঠা। কত দোক কাজ পেল। কত ব্যবণ্য শুরু হল। সে এক অমভমট খ্যাপার। ঠান্ডা পানীয় কি এমনি এমনি সৌমিত্র বানুর মুখ থালানের সম্মান নিল। একই সাধে পলিটছ এবং আকায়েমিন্ন পূজার আয়োজনে যুক্ত হন। সরকারি অনুদান ও গবেষণা জুড়ে গেল সুমার সঙ্গে। অবশেষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও জুটে গেল। কার অন্য ঘুটল তা, তাই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হল। তারপর সব পক্ষ এক মক্ষে রসে অভিবাদন গ্রহণ করল।
এই দুর্গাপুজার ছবিটাই কোভিচকালের দ্বিতীয় ঢেউ সামলে। জীয়াতে জনমানসে হাজির হয়েছিল, তা-ই এই বইয়ের বিষয়। বংলা সংবাদপত্রে সেই সময় দুর্গাপূজার যে চিত্র দেখা দিয়েছে, যেখানে বাঙালি সমাজের চেহারারও একটি পরিচয় মেলে। যা আমি যত্ন করে সাজিয়েছি। করোনার দিনগুলোতে এপাড়া ওপাড়া ঘুরে ঘুরে, বিভিন্ন স্টল থেকে ব্যালা খবরের কাগজ কিনেছি প্রতিদিন নিয়ম করে। কী ভয়াবহ দিন ছিল সেসব। তারপর পূজা সংক্রান্ত খবর, ছবি, ফিচার, বিজ্ঞাপন আরও যা যা পেয়েছি, কাঁচি নিয়ে কেটে খাতায় অষ্টয়া নিয়ে আটকেছি। এভাবেই দু'টো সম্বা ও মোটা হাউকাউন্ড খাতা ভরে গেছে। তা-ই টাকা-টিকনী সহ এই সংকলনের উপাদান। আর, এই-ই হল বইয়ের ভূমিকা। যত্ন করে বইটা সাজিয়ে পাঠকের দরবারে হাজির করলাম। এবার আপনাদের পছন্দ হলেই আমার পরিশ্রম এবং প্রকাশক দীপুর সদিচ্ছা মান্যতা পায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""