খ্রিষ্টীয় ১৫২৬ সনের গ্রীষ্মে পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পর্যুদস্ত করে ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লীর দখল নিয়েছিলেন জাহিরুদ্দিন মহম্মদ। ইতিহাসের পাঠ থেকে আমরা সবাই জানি যে, এভাবেই হিন্দুস্থানে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিৎ- পত্তন হয়েছিল উজবেকিস্তানের তৈমুর-বংশজ এই বিজেতার হাতে আর ইতিহাসে তিনি প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন বাবর নামে। বিজয়ী বাহিনীর দস্তুর অনুযায়ী রাজধানী দিল্লিতে ঢুকেই বাবরের সৈন্যরা লুঠতরাজের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাবরের কড়া নির্দেশ ছিল, কোনো সৈন্য লুঠে প্রকৃত হলেই তার প্রাণদণ্ড হবে। এই রীতিবিরুদ্ধ আদেশে মধ্য এশিয়া থেকে আগত বাবরের সেনানীদের খুশি হবার কথা তো নয়ই, তারা রীতিমতো বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠল, কারণ দেশ ঘর ছেড়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবরের হয়ে যুদ্ধ করে চলেছে।
বাবর একদিন তাঁর প্রাসাদে ঢুকতে গিয়ে দেখেন, দেয়ালে কোনো এক সেনানী লিখে রেখেছে- "হে সম্রাট, মনে করুন আপনার স্বদেশের রৌদ্র-যৌত ঝলমলে প্রান্তর, তার চির অভান্ত জীবন, হিন্দুস্থানের এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া ছেড়ে ফিরে চলুন সেখানে।" স্বভাবকবি জাহিরুদ্দিন মহম্মদ বাবর ওই লিখনের তলায় দিলেন কবিতায় প্রত্যুত্তর- "যার মন ব্যাকুল হয়েছে, সে স্বদেশে ফিরে যাক। বাবর এই হিন্দুস্তান ছেড়ে কোথাও যাবে না, হিন্দুস্তানকে সে গ্রহণ করেছে তার নতুন স্বদেশ বলে।" যে-দেশে এর আগে শক হন গ্রীক কত বিজেতা "দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে", সেই ভারতের ইতিহাসে এমন কথা এই প্রথম শোনা গেল, কারণ বহিরাগত বিজেতারা এ দেশকে জয় করেছে, ভাঙচুর লুণ্ঠন করে। ধনসম্পদ নিয়ে ফিরে গেছে, কিন্তু বাবরের আগে কেউ ভারতবর্ষকে স্বদেশ বলে গ্রহণ করেনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""