'আরশিনগরে তাঁবু' আমার লেখা প্রথম উপন্যাস। প্রথম বড়ো উপাখ্যানের প্রতি সব লেখকেরই একটু দুর্বলতা থাকে মনে হয়। এই বইটির প্রতি আমারও খানিক থরথর আবেগ আছে। তাছাড়া এই উপন্যাসের অনেকখানি জুড়ে আছে আমার দেখা ক্ষণকালীন তীব্র প্রেমের দাউদাউ শিখা, দাহ ও ভস্ম।
তবে এই আখ্যানটি তৈরির পিছনেও এক গল্প আছে। গল্পের পেছনে আছে সাহিত্যের রাজনীতি, ধর্মীয় উন্মাদনার আবর্ত। গল্পটি তাই পাঠককে বলার অপেক্ষা রাখে।
তখন গল্পই লিখতাম। একদিন শ্রদ্ধেয় লেখক বিমল কর ফোন করলেন, আমার নানারকম গল্প তিনি আগেই পড়েছিলেন। তখনও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। বললেন, একটি বড় পত্রিকা-গোষ্ঠীর জন্য উপন্যাস লিখতে হবে আমাকে। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম! বললাম, লিখব কী করে? আমি তো কখনও উপন্যাস লেখার কথা ভাবিইনি। উনি বললেন, প্রত্যেকেই একদিন নতুন করে ভাবে। কাজেই তুমি লেখো, আর সাত দিনের মধ্যে আমাকে তিরিশ পাতা লিখে দেখাও।
মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল। অত বড় মানী সাহিত্যিকের কথা তো অগ্রাহ্য করতে পারি না, কাজেই ভাবতে বসলাম। সদ্য বি.এড. পাস করেছি। সেই কলেজের একটি ছাত্রের কথা মনে এল। সে ছিল মুসলমান এবং প্রকৃত অর্থে অসাম্প্রদায়িক। গ্রামের অকুলীন ছেলে, হাতে সবসময় নজরুলের জীবনী নিয়ে ঘোরে আর নিজেকে বলে- 'আমি বামুন-মুসলমান'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""