গোটা ভারত জুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট খিদের জ্বালায় অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক স্তরে থাকা মানুষজন, জন্মসূত্রে তাঁরা যে ধর্মে বিশ্বাসীই হোন না কেন, দুবেলা দুমুঠো পেট ভরে খাবার তাগিদে জীবনকে বিপন্ন করে, উপার্জনের চেষ্টা সত্ত্বেও হতাশ হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে একটা সময় হিন্দু-মুসলমান, জাত-বেজাত, এসব নিয়ে সংঘাতের আবহাওয়া স্বাধীন ভারতের যখন অনেকটাই স্থিমিত হয়ে আসছিল, তখন ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারীরা এই বিভাজনের অক্ষরেখাটিকে শুধু স্পষ্ট করেই তুললেন না, গভীর ক্ষতের মতো একটা দগদগে ঘায়ে পরিণত করলেন। যার জেরে, সবহারানো মানুষগুলো, একটা সময়ে বস্তি বা রাস্তার ধারে মনুষ্যতর জীবনযাপন করলেও, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধর্ম ঘিরে তাঁদের কারো তেমন একটা বিশেষ আকর্ষণ ছিল না, পরস্পর কোন রেষারেষি ছিল না। পরস্পর পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবকে মনে করতো বিত্তবান মানুষদের বদান্যতায় একটু পেটপুরে খেতে পাওয়ার দিন হিসেবে।
সেই সমস্ত মানুষদের ভেতরে যাঁরা জন্মসূত্রে হিন্দু, তাঁদের মধ্যে প্রতিবেশী মুসলমান সম্প্রদায় শ্রেণি অবস্থানগত দিক থেকে বিচার করলে, তাঁরা বস্তিবাসী প্রান্তিক হিন্দুদের থেকে এতটুকু আলাদা নয়। তাঁদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিল ধর্মের রাজনৈতিক কারবারিরা। বিভাজনকে রুখে দেবার জন্য যাঁরা সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন একটা দিন, তাঁদের সেই ভূমিকা যাতে প্রকট হয়ে না ওঠে, সেই জন্য তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা খর্বের উদ্দেশ্যে, গোটা দেশের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক শক্তি, সংস্কৃতিক শক্তি-তারা অভিন্ন শ্রেণি স্বার্থ নিয়ে কর্মতৎপর হয়ে উঠল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""