সম্পাদকীয়
সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকার করে নিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করা মানুষের ধর্ম। মৃণাল সেন ৮৪ বছরেও তা করে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র-র মাধ্যমে সমাজকে তিনি বাস্তবে পরিণত করতে চেয়েছেন। তার ছবি তাই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিফলন। তিনি মানুষের সামনে অভাব, অনটন, রাজনৈতিক ঘটনা, দুর্ঘটনা দেখিয়েছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবন থেকে। এছাড়াও দেশভাগ তার জীবনে এক যন্ত্রণাময় ঘটনা। বাম রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন বলে তার ছবিতে বারবার রাজনীতি চলে আসে। কিছুদিন আগে 'রাগী যুবক' মৃণাল সেন ৮৪ বছরে পা দিলেন
জন্মদিন সম্পর্কে মৃণাল সেনের নিজস্ব কথায়
এই শতাব্দীতে এতই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং শিল্পজগতে, এত পালাবদলের ধাপ আমরা দেখেছি যে কোনটা ছেড়ে কোন ঘটনাকে অগ্রাধিকার দেব বুঝতে পারছি না। হয়তো তা সম্ভবও নয়। এক কথায়, এই শতাব্দী এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস, তাই এত ঘটনার মধ্যে কোনও বিশিষ্ট ঘটনাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অসুবিধা হচ্ছে। সব ছেড়েছুড়ে কোন ঝুঁকি না নিয়ে অথবা কোন সমালোচনা না করে মনে হচ্ছে এই কথাটা বলা উচিত হবে, অন্তত এই মুহূর্তে তাই ভাবছি, এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘটনা 'আমি জন্মেছি"।
৮৪ বছরের যুবকের চলচ্চিত্র-সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বল্প পরিসরে হাজির করা সম্ভব নয়। আমরা তাকে যেভাবে পেয়েছি নানান আলোচনায়, সাক্ষাৎকার, বিভিন্ন লেখায়, সেই ভাবেই হাজির করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই তিনি সমান দাপটের সঙ্গে চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করুন। মৃণাল সেন তর্ক করতে ভালোবাসেন, আমরা চাই তার এবং তার ছবিকে নিয়ে আলোচনা, তর্ক চলুক প্রতিদিন প্রতিনিয়ত, তাকে নিয়ে তর্ক ও আলোচনা ভীষণভাবে জরুরী।
সবশেষে বলি মৃণালদা আরো সৃজনশীল, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাহসী হোন এবং দীর্ঘজীবন লাভ করুন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""