কয়েক হাজার বছর আগের কথা। শ্রাবস্তী নগরে এক দানশীল রাজা ছিলেন। আশেপাশে যত রাজা ছিলেন তাঁদের চেয়ে তাঁর নামডাক ছিল বেশি। তিনি দানশীল ছিলেন বলেই যে খ্যাতি ছিল তাই নয়। তাঁর ছিল লক্ষ লক্ষ সেনা। বহু দাস-দাসী। প্রজাদের সংখ্যা অনেক। তাঁর ধনভাণ্ডারে ভরতি ছিল হিরা, পান্না, চুনি, জহরত প্রভৃতি মূল্যবান পাথর। ঘড়া ঘড়া সোনা ছিল, রুপা ছিল। তাঁর ভাগ্য ছিল সুপ্রসন্ন। যে কাজে তিনি হাত দিতেন সফল হতেন। তাঁর সঙ্গে যার বিয়ে হয়েছিল, তিনি ছিলেন অপরূপ সুন্দরী। তাঁর বিষয়ে যে আর একটি কথা না বললেই নয়। তাঁর কোনো অহংকার ছিল না। যেকোনো গরিব প্রজা তাঁর কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসত না। যেমন তাঁর আয় হত তেমনি তিনি দানও করতেন। তাই দানশীল রাজা বলতে যেকোনো দেশের লোক তাঁকেই বুঝত। অন্যান্য দেশের লোকও ওই রাজার নাম করত।
বেশ চলছিল। হঠাৎ বিষাদের ছায়া নেমে এল। কী সুন্দর জীবনযাপন করতেন রানি কান্তিরেখা। কী যে রোগ তাঁর ধরল কে জানে। বৈদ্য ডাকার আগেই মারা গেলেন। রাজা চোখের সামনে অন্ধকার দেখলেন। তাঁর দুঃখে প্রজারাও দুঃখ পেল। কিন্তু রাজাই দুঃখ পান, আর প্রজারাই দুঃখ পাক, যে মারা যায় সে তো আর ফিরে আসে না। মৃত্যুর হাত থেকে কারও রেহাই নেই। তা সে রাজাই হোক আর প্রজাই হোক।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""