আজ থেকে অনেক বছর আগেকার কথা। তখন উজ্জয়িনী নামে এক নগর ছিল। নগরটি দেখতে যেমন সুন্দর ছিল তেমনি সেখানে বাস করত সব পণ্ডিত আর গুণী লোকেরা। সেখানকার রাজার নাম ছিল গন্ধর্বসেন। তিনিও খুব পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।
মহারাজ গন্ধর্বসেনের চার রানি ও ছয় পুত্র ছিল। রাজকুমাররা গুরুর কাছে
শিক্ষা লাভ করে পণ্ডিত ও বিচক্ষণ হয়ে ওঠেন। কিন্তু রাজা গন্ধর্বসেন হঠাৎ মারা যান। তখন নিয়ম ছিল বড়ো পুত্র সিংহাসনে বসবে। গন্ধর্বসেনের বড়ো পুত্র শঙ্কু মহাসমারোহে সিংহাসনে বসেন।
ছয় রাজকুমারের মধ্যে বিক্রমাদিত্য ছিলেন সবচেয়ে ছোটো- তাঁর খুব সিংহাসনে বসার লোভ। তাই তিনি চুপিচুপি শঙ্কুকে হত্যা করে নিজে সিংহাসনে বসলেন।
অবশ্য অন্যায় পথে সিংহাসনে বসলেও রাজা হিসাবে বিক্রমাদিত্য উপযুক্ত ছিলেন। প্রথমেই তিনি রাজ্যের সীমা অনেক বাড়িয়ে নিলেন। বিক্রমাদিত্যের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
একদিন তিনি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন- আমি সকল প্রজার রাজা। প্রজাদের সুখ-দুঃখ দেখার ভার আমার। অথচ আমি রাজপ্রাসাদে বেশ সুখে দিন কাটাচ্ছি। আমার লোকেরা প্রজাদের সাথে কেমন ব্যবহার করে তা একবার দেখা উচিত।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তিনি রাজ্যের ভার তাঁর ভাই ভর্তৃহরির হাতে দিয়ে ছদ্মবেশে দেশভ্রমণে বের হলেন। বিক্রমাদিত্য বহু দেশ ঘুরলেন, প্রজাদের সাথে আলাপ করলেন, তাদের অসুবিধার কথা শুনলেন।
একদিন তিনি খবর পেলেন যে ভতৃহরি, যার হাতে রাজ্যের ভার দিয়ে এসেছিলেন, তিনি নাকি স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে রাজপাট ফেলে বনে গিয়ে যোগসাধনা করছেন। এ খবর পাওয়ামাত্র বিক্রমাদিত্য উজ্জয়িনীর দিকে যাত্রা করলেন।