অনুমান করা হয়, ইশপ (Aesop) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে জন্মেছিলেন। সম্ভবত তিনি আফ্রিকার ইথিওপিয়া অঞ্চলের কৃষ্ণকায় লোক ছিলেন। কিন্তু তিনি জন্মাবধি এক গ্রিক মনিবের ক্রীতদাস ছিলেন। ইশপের জ্ঞানবুদ্ধির পরিচয় পেয়ে মনিব তাঁকে ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
ইশপ পরে মহা ঐশ্বর্যশালী রাজা ক্রিসাসের (King Croesus) দূত হয়েছিলেন। রাজদূত হিসাবে ইশপের কাজ ছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে খেটে-খাওয়া লোকজনকে নীতি শিক্ষা দেওয়া। নিছক নীতির কথা বললে লোকে সহজে তা গ্রহণ করতে চায় না বলে ইশপ গল্পের ছলে নীতি-উপদেশ দিতেন।
কিন্তু যেহেতু তিনি ছিলেন রাজার দূত, এজন্য মানুষের অনৈতিক আচরণ বা দোষত্রুটিগুলি তিনি মানুষের মুখে বলিয়ে শ্রোতাদের মনে আঘাত দিতে চাইতেন না; পশুপাখিকে গল্পের পাত্রপাত্রী করে, তাদের মুখ দিয়েই এসব বলাতেন। তিনি তাঁর গল্পকে এমনভাবে সমাপ্ত করতেন যে শ্রোতারা সহজেই গল্পের অন্তর্নিহিত নীতিটুকু উপলব্ধি করতে পারত।
ইশপের ওইসব গল্প পরে যখন সংকলিত ও লিখিত হয়, তখন সংকলকগণ গল্পের শেষে অনুল্লিখিত নীতিও জুড়ে দেন। সেই থেকে নীতিগল্পের (Fables) এই রীতিই প্রচলিত হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""